মেইন ম্যেনু

ফেসবুকের প্রেমের টানে ভারতের গ্রামে ঘর বাঁধলেন মার্কিন নারী

প্রথমে ফেসবুকে আলাপ। তারপর প্রেম নিবেদন। আর সেই প্রেমের টানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ছুটে এসেছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের এক অজপাড়াগাঁয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার রঙিন জীবন ছেড়ে বাংলার গৃহবধূটি সেজে দিন কাটাচ্ছেন আদ্রিয়ানা পেরেল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন নারী আদ্রিয়ানা পেরেল ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমে পড়েন তাঁর চেয়ে ১৬ বছরের ছোট মুকেশ কুমারের। মুকেশের বাড়ি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পানিপথের কাছে পোপরান গ্রামে। প্রেমের টানে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দাম জীবন ছেড়ে এখন ৪৩ বছর বয়সী আদ্রিয়ানা পেরেলে এখন মুকেশের ঘরণী। জিন্স-টি শার্ট ছেড়ে সালোয়ার কামিজ আর মাথায় ওড়না দিয়ে রীতিমতো ভারতীয় বধূর মতো মুকেশের ঘর সামলাচ্ছেন তিনি।

২০১৩ সালে এক কমন বন্ধুর মাধ্যমে মুকেশের সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় আদ্রিয়ানের। কদিন চ্যাট করেই ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলা শুরু করেন তারা। প্রথম কথাতেই আদ্রিয়ানাকে প্রেম নিবেদন করেন মুকেশ। এক মেয়ের মা আদ্রিয়ানা প্রথমটায় মুকেশের সেই প্রেম নিবেদনের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা মুকেশ। প্রতিদিন নিয়ম করে আদ্রিয়ানাকে ফোন করে তাঁর খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে ক্রমাগত প্রেম নিবেদন করে যেতে থাকেন। ফলে একসময় আদ্রিয়ানা বুঝতে পারেন, এই ভারতীয় প্রেমিককে আর ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়।

আদ্রিয়ানার পরিচিতরা অনেক বুঝিয়েছিলেন তাঁকে শুধু ফেসবুকের আলাপেই ভারতে চলে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু ততদিনে মুকেশের প্রেমে কার্যত পাগলপারা অবস্থা আদ্রিয়ানার। অবশেষে নিজের ২৫ বছরের মেয়ে লুসিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেখেই প্রেমিক মুকেশের টানে ভারতে চলে আসেন তিনি।

২০১৩ সালের আগস্ট মাসে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে প্রথম মুখোমুখি দেখা হয় মুকেশ-আদ্রিয়ানার। তারপরেই নিজের গ্রামে আদ্রিয়ানাকে নিয়ে আসেন মুকেশ। সেখানে আসার মাস তিনেক পরে হিন্দু রীতি মেনে মুকেশ-আদ্রিয়ানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-শাশুড়িকে নিয়ে পোপরান গ্রামেই থাকেন আদ্রিয়ানা।

রোজ নিয়ম করে চা করা, ঘুঁটে দিয়ে রান্না করা, বাসন মাজা, কাপড় কাচা, ঘর ঝাঁট দেওয়া সবই এখন আদ্রিয়ানার নখদর্পণে। এমনকি বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে চার দেয়ালের ছোট শৌচাগারে যেতেও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন তিনি।

ভারতীয় এই গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পেরে খুশি আদ্রিয়ানা। জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই এই গ্রাম্য জীবনকে ছেড়ে যাবেন না তিনি। অন্যদিকে বিদেশিনী বৌ পেয়ে খুশি মুকেশের ৭০ পেরিয়া যাওয়া মা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেম ছেলেবউয়ের কাজে তিনি ভীষণ খুশি। ছেলেবউ যেমন নিয়ম করে তাঁর সেবা যত্ন করেন, তেমনটা আর কেউ করে না। মুকেশের মা এরই মধ্যে নাতি-নাতনি চেয়ে বসে আছেন বিদেশি বৌয়ের কাছে। শাশুড়ির সে আবদার রক্ষা করতে রাজি আদ্রিয়ানা।

আদ্রিয়ানা এখনো ভালো করে হিন্দি ভাষা রপ্ত করতে পারেননি। অন্যদিকে মুকেশও ইংরেজিটা বলেন খুব ভাঙা ভাঙা। তবে তাই বলে ভাষার ব্যবধানে প্রেম বাধা পায়নি। ধীরে হিন্দি শিখছেন আদ্রিয়ানা। সুখেই কাটছে তাঁদের সংসার। তবে এত সুখের মধ্যে এখনো আদ্রিয়ানাকে বড় কষ্ট দেয় ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেলে আসা তাঁর ২৫ বছরের মেয়ে লুসির স্মৃতি। আদ্রিয়ানাকে বিদায় জানানোর সময় খুব কেঁদেছিল লুসি। ক্যালিফোর্নিয়ায় মেয়েকে দেখতে যেতে চান তিনি। তবে এবার একা নন। স্বামী মুকেশকে নিয়েই সেখানে যাবেন বলে ঠিক করেছেন আদ্রিয়ানা।