মেইন ম্যেনু

ফেসবুকে পেজ খুলে মদের ব্যবসা

বাংলাদেশে অনেক রকমের অবৈধ ব্যবসা চললেও অনেকেই সেসবের কোনো খবর পান না। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেজালবিরোধী অভিযানে কিছুটা আঁচ করা যায় মাত্র।

সম্প্রতি অবৈধভাবে অনলাইনেই শুরু হয়েছ মাদক দ্রব্যের অবৈধ রমরমা বিক্রি। এ প্রক্রিয়ায় সহজেই মিলছে মদ। বিকাশে পেমেন্ট দিলে ঘরে বসেই মদের বোতল পেয়ে যাচ্ছেন আগ্রহীরা।

তবে পেমেন্ট দিয়ে আবার অনেকে প্রতারিতও হচ্ছেন। তবে নানা কারণে সেসব প্রতারণার কথা পুলিশের কাছে জানাচ্ছেন না তারা।

সম্প্রতি মনিরুল ইসলাম মাসুদ নামে এক ব্যক্তি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘মাদক দ্রব্য বহন কিংবা অনুমিত স্থানের বাইরে মাদক নেয়া আইনত দণ্ডনীয়। সেখানে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুক পেজ খুলে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি চলছে। তা ডিএমপির পক্ষ থেকে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না?’

তার এমন অভিযোগের জবাবে ডিএমপি জানিয়েছে, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ’।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সিনিয়র সহকারি কমিশনার (এসি) এ এস এম হাফিজুর রহমান জানান, আমাদের ফেসবুক পেজে অনেক বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে ম্যাসেজ আসে। থাকে অভিযোগও। আমরা যথাসাধ্য তার সমাধানযোগ্য উত্তর দিয়ে থাকি।

তিনি আরো বলেন, অনলাইনে মদ বিক্রির বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা অভিযোগটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই খতিয়ে দেখছি।

গত বুধবার অনলাইন বার বিডি নামে একটি ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে একটি মোবাইল নম্বর। যে নম্বরটিতে যোগাযোগ করে লোকেশন দিয়ে মদের অর্ডার দেয়া যায়।

পেজটি জুড়ে দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের ছবি রয়েছে। সঙ্গে দেয়া হয়েছে অফারও।

ওই পেজে যে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে তাতে যোগাযোগ করা হলে নাজিব নামে এক ব্যক্তি রিসিভ করে বলেন, ‘স্যার বলুন, আপনার জন্য কী করতে পারি?

কৌশলী ভূমিকায় হুইস্কি চাইলে তিনি বলেন, বিকাশ নম্বরে ফিফটি পারসেন্ট টাকা পেমেন্ট দিতে হবে। এরপর কাঙ্ক্ষিত লোকেশনে পৌঁছে দেয়া হবে হুইস্কির বোতল।

বিকাশ নম্বর চাইলে তিনি বলেন, আগে নিজে নিশ্চিত হোন, কোন লোকেশনে হুইস্কি পাঠাতে হবে তারপর বিকাশের নম্বার দেয়া হবে। নাজিব নামে ওই ব্যক্তি আরো জানান, রাসেল নামে এক যুবক আপনার দেয়া ঠিকানায় হুইস্কি পৌঁছে দেবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্র বলেন, ‘অর্ধেক পেমেন্ট দিয়ে হুইস্কির বোতল পাইনি। টাকাও ফেরত পাইনি। যে নম্বরে যোগাযোগ করেছিলাম সেটি এখন বন্ধ। লোকলজ্জার ভয়ে এমন প্রতারণা পুলিশেও জানাতে পারছি না।’