মেইন ম্যেনু

ফেসবুক প্রেমে বাংলাদেশে ছুটে আসছেন বিদেশিনীরা

ফেসবুকে প্রেম ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করেছে। সেই সঙ্গে ভেঙে ফেলেছে ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-বর্ণসহ নানা সংস্কার, ভেদাভেদ। শুধু তরুণ-তরুণীই নয়, ৪০-৫০ বয়সী নর-নারীও আসক্ত হয়ে পড়েছেন ফেসবুক প্রেমে। তারা প্রিয়জনের জন্য ঘর ছাড়ছেন। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে আসছেন বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গেল জানুয়ারি মাসেই ব্রাজিল, কানাডা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নারী প্রেমের টানে উড়ে এসে বিয়ে করেছেন হবিগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও মাগুরার তিন তরুণকে। অনেকের বয়সের বিস্তর ব্যবধান থাকলেও তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

সর্বশেষ গেল সোমবার (৩ এপ্রিল) ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে সুদূর ব্রাজিল থেকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর গ্রামের বলাই ঘোষের ছেলে সঞ্জয় ঘোষের (২৮) কাছে ছুটে এসেছেন জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভা (২৯)। তারা বিয়ের সিদ্ধান্তও নিতে যাচ্ছেন।

জেইসার কথা, এদেশ তার খুবই ভালো লেগেছে। এ দেশের মানুষ খুবই সৎ। তাই সঞ্জয় যদি তাকে জীবনসঙ্গী করতে চায় তাহলে আপত্তি নেই।

এর আগে গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্রাজিলীয়ান নারী সেওমা ভিজেহা (৪৭) প্রেমের টানে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ছুটে আসেন হবিগঞ্জে নবীগঞ্জের ছেলে কলেজছাত্র আবদুর রকিবের (২২) কাছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ রকিবকে বিয়ে করেন সেওমা।

একই সময়ে (২ জানুয়ারি) এলিজাবেথ (২১) নামে এক মার্কিন তরুণী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের পঞ্চানন্দ বিশ্বাসের ছেলে মিঠুন বিশ্বাসের (২২) কাছে। ফেসবুকে তাদের পরিচয় ও প্রেম। এর সূত্র ধরেই পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মিঠুন ও এলিজাবেথ।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সুবাদে মাগুরার ছেলে কাজী মারুফুজ্জামান চন্দনের সঙ্গে প্রেম হয় অস্ট্রেলীয় নারী আসান ক্যাথরিনার। প্রেমের টানেই সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ক্যাথরিনা ছুটে আসেন চন্দনের মাগুরার বাড়িতে। এসে সংসার পাতেন। ক্যাথরিনা বলেন, ‘এদেশে এসে আমি খুব খুশি। ভাবতেও পারিনি এদেশের মানুষ আমাকে এতটা আপন করে নেবে।’

প্রেমের টানে গেল বছরের ৩০ মার্চ সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া থেকে বরিশালে আসেন এমিলি রেবেকা পার নামের এক তরুণী। নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারের ভাতিজা সাইদুল আলম রুমানকে বিয়ে করেন।