মেইন ম্যেনু

ফ্রান্সে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০, আহত ৩৭

অঘটন আর মৃত্যুর মিছিল যেন পিছু ছাড়ছে না ফ্রান্সের। দু’দিন আগেই প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন দেড় শতাধিক নিরীহ মানুষ। তবে এবার কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়, পৃথিবীর অন্যতম দ্রুতযান খ্যাত ফ্রান্সের TGV (Train de Grande Vitesse) লাইনচ্যুত হয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আহত হয়েছেন ৩৭ জন, এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থাই আশংকাজনক।

গত শুক্রবার ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গতকাল শনিবার জার্মান সীমান্তের কাছাকাছি ফ্রান্সের পূর্বে স্ট্রাসবুর্গ-এর ইকওয়ারশেইমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতি দ্রুত গতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ট্রেনটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে এএফপি জানিয়েছে।

স্থানীয় রেল কর্মকর্তা ডমিনিক নিকোলাস জ্যঁ জানিয়েছেন, মাত্রারিক্ত গতির কারণেই পরীক্ষা করার সময় ওই দুর্ঘটনা হয়। এ সময় ট্রেনটিতে একাধিক টেকনিশিয়ান অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে।

শনিবার ফ্রান্সে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ থেকে ৭টার মধ্যে ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন অব টিজিভি’ সিরিজের পরীক্ষামূলক এই ট্রেনটির নাম এলজিভি, যাতে ৪৯ জন যাত্রী ছিল। এদের সবাই ছিলেন এসএনসিএফ-এ কর্মরত, তাদের পরিবার ও অতিথিরা। তবে এতে কোনো টিকিটধারী যাত্রী ছিলেন না।

৬ বগি বিশিষ্ট ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগে যাচ্ছিল। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে একটি ১৩০ ফুট চওড়া খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই অতি দ্রুত ফ্রান্স পুলিশের একটি বিশেষ দল কয়েকটি হেলিকপ্টার ও ১০টি উদ্ধারকারী যান ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনা কবলিত স্থানের বেশ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে বড় কালো ধোঁয়া দেখা য়ায়। দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাটি জনবহুল (non-residential) না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা কম হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ফ্রান্সের এই গভীরতম শোকের সময়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফ্রান্সবাসীকে আরও শোকাতুর করে তুলেছে। ১৯৮১ সালের পর এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় টিভিজি ট্রেন দুর্ঘটনা।