মেইন ম্যেনু

‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন’ পুরস্কারে ভূষিত স্নোডেন

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির তথ্য ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এডওয়ার্ড স্নোডেন নরওয়ের ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিজ দেশের নাগরিক ও অন্যদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নজরদারি করেছে তা প্রকাশ করায়’ ৩১ বছর বয়সি স্নোডেনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নরওয়েজিয়ান একাডেমি অব লিটারেচার ও ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন প্রতি বছর এই পুরস্কার দেয়।

এমন সময় স্নোডেন এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। রোববার থেকে সাময়িকভাবে নজরদারির কাজ স্থগিত হয়ে পড়ে। অবশ্য মঙ্গলবার নজরদারি কর্মসূচির সীমা কমিয়ে এবং এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের ক্ষমতা কমিয়ে নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

পুরস্কারে ভূষিত হলেও স্নোডেন তা গ্রহণ করতে পারবেন কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন তিনি। সেখান থেকে নরওয়েতে গেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা, এর ওপরই নির্ভর করছে পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টি।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) প্রাক্তন বিশ্লেষক এডওয়ার্ড স্নোডেন ২০১৩ সালে রাশিয়ায় যান এবং সেই থেকে দেশটির আশ্রয়ে রয়েছে তিনি। রাশিয়া তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্নোডেনকে ‘হ্যাকার’ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পড়লে তাকে এই মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গোপন নজরদারি কর্মসূচি ফাঁস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে যায় এবং এ নিয়ে অনেক দেশের নিন্দা কুড়িয়েছে তারা।

স্নোডেন নরওয়েতে এলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে না- এই মর্মে নরওয়ে সরকারকে নিশ্চয়তা দিতে অনুরোধ জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান একাডেমি অব লিটারেচার। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পুরস্কারের অর্থ ও সনদ স্নোডেনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এই পুরস্কার বাবদ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন তিনি।

পরপর দুই বার নবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন স্নোডেন। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

তথ্যসূত্র : জিনিউজ অনলাইন।