মেইন ম্যেনু

বইমেলায় ভাষাপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়

মা-মাটি ও মানুষের আবেগের দিন আজ। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সর্বত্রই উপচে পড়া ভিড়। ভিড় জমেছে একুশে বই মেলাতেও। বইমেলা যেন আজ ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা।

রোববার প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে ভিড় জমে অনেক বেশি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা প্রেমি মানুষদের অধিকাংশরাই ভিড় জামান একুশের বইমেলায়।

একুশে বইমেলা আজ পেয়েছে ভিন্ন রুপ। সেজেগুঁজে, নানা রঙ্গে-ঢঙ্গে দল বেধে বান্ধবি বন্ধু কিংবা, স্বপরিবারে আসছেন বই মেলায়। স্টলে স্টলে বেশ ভিড় লক্ষ্য করার মতো।

বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্রের দেয়া তথ্য মতে, বইমেলায় আজ থাকবে সবচেয়ে বেশি ভিড়। ভাষা প্রেমিদের ঢল নামবে বই মেলায়। বিকেল ৪টার মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠবে বইমেলা।

মেলার অনেক স্টলেই বাজছে একুশের গান ও কবিতা। বিভিন্ন স্টলে আজ একুশ আঙ্গিকের কবিতার বই, ও গল্প উপন্যাসের বই বিক্রি হচ্ছে। আবৃতি হচ্ছে একুশের কবিতা। গান বাজছে ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’।

বইমেলায় নিজের ভাললাগার কথা ব্যক্ত করেন ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক আসলাম মিয়া। তিনি জানান, ঢাকায় আসা কম হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি শুক্রবারের ছুটির সঙ্গে আরও কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে ছুটে এসেছেন ভাষার টানে বইমেলার টানে। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ঘুরতে এসেছেন বইমেলা। কয়েকটি স্টল ঘুরে কিনেছেন বই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক ছাত্র আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলনকে বেগবান করেছে ভাষা আন্দোলনের। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙ্গালী জাতি স্বাতন্ত্রতা দেখিয়েছিল। আজ সেই ২১ ফেব্রুয়ারি। আর এই ভাষার মাসে বইমেলা আসতে না পারলে ব্যর্থতাই বটে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনের (১০০ নং স্টল) অভ্র প্রকাশনী সূত্র জানায়, সকাল থেকে বইয়ের কাটতি বেশি।