মেইন ম্যেনু

বউমাকে গালিগালাজে শাশুড়ির গুনাহ হবে কি?

প্রশ্ন : আমি এনটিভিকে ধন্যবাদ জানাই এ রকম একটি সুন্দর অনুষ্ঠান চলমান রাখার জন্য। আমি একটি বিষয় জানতে চাই, তা হলো, আমার আম্মা আমার স্ত্রীকে খুব অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন। আমি আমার আম্মাকে কিছু বলি না এবং আমার স্ত্রীকে নিষেধ করি যেন আমার আম্মাকে কিছু না বলে। আমার স্ত্রীও আমার আম্মাকে কিছুই বলে না। এমতাবস্থায় আমার আম্মার কি গুনাহ হবে?

উত্তর : গালিগালাজ তো গুনাহের কাজ। মুসলিম ব্যক্তির গালিগালাজ করাটা ফাসেকি কাজ। আল্লাহর আনুগত্য এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কাজ। সুতরাং যিনি গালিগালাজ করছেন, ভুল করছেন; বরং শুধু ফাসেকি কাজ তা নয়, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন যে, ‘যখন তারা কোনো কারণে ঝগড়া-বিবাদ করে, তখন গালিগালাজ করে, অশ্লীল ভাষায় কথা বলে।’ এটি শুধু ফাসেকি কাজ তা নয়, বরং এ কাজটি মুনাফেকির লক্ষণ। অন্তরের বিকৃতির বিষয় এর সঙ্গে জড়িত আছে।

তাই ইসলাম কোনোভাবেই গালিগালাজ করতে বলেনি। গালিগালাজের কোনো ধরনের সংযত কারণ নেই। নবী (সা.) সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কখনো নবী (সা.) অশ্লীল কথা বলতেন না, কাউকে লানত-অভিশাপ দিতেন না। এটি নবীর (সা.) চরিত্রের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যিনি এ কাজ করছেন, তিনি শুধু গুনাহগার হবেন তা নয়, তিনি বড় গুনাহগার হবেন। কারণ, তিনি এ কাজের মাধ্যমে নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, নিজের আমল নষ্ট করছেন এবং অন্যের হক নষ্ট করছেন।

কারণ, এর সঙ্গে যাকে গালিগালাজ করছেন, তিনি যদি সত্যিকার অর্থে এই গালিগালাজের উপযুক্ত না হন, তাহলে তাঁকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর হক নষ্ট করা হচ্ছে। সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করা তো তাঁর হক। সে ক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই গুনাহগার হবেন। এর জন্য যদি তিনি আল্লাহর কাছে তওবা এবং ক্ষমা না চান, তাহলে তাঁর এ কাজ সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত আছেন। আপনি অত্যান্ত বিনয়ের সঙ্গে শালীনভাবে তাঁকে বোঝাতে পারেন যে তাঁর এ কাজটি ইসলামে বৈধ নয়।

তবে আপনি এবং আপনার স্ত্রী যে সহ্য করছেন, এর জন্য আপনারা জাজা পাবেন। আপনাদের অবশ্যই সহ্য করা উত্তম এবং এর জন্য উত্তম প্রতিদান পাবেন।

পিতা-মাতা যদি এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সন্তানের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করা। যেহেতু পিতা-মাতার ক্ষেত্রে আমাদের এহসানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এহসানের পরিপন্থী কাজ হচ্ছে তাঁদের ধমকানো, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। এই কাজ আপনার জন্য জায়েজ নয়। আপনার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে আপনি চুপ থাকবেন।