মেইন ম্যেনু

বখাটে সন্ত্রাসীর হাত থেকে মেধাবী ছাত্রীকে বাঁচাতে অসহায় পিতার সংবাদ সম্মেলন

মেধাবী মেয়েটির অনেক স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে। এ লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছিল সে। তবে তার স্বপ্নিল স্বপ্নের সিড়িতে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার কুখ্যাত বখাটে এক সন্ত্রাসী। এমনকি তার উত্ত্যক্তের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতে তাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এসব ঘটনা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি তিনি।

বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এমন আকুতি জানিয়ে মেয়ের ভবিষ্যত গড়তে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোবারক হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার মেয়ে রহমতপুর নবযুগ শিক্ষাসোপান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাকালীন একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন উত্ত্যক্ত করতে থাকে। আল আমিনের উত্ত্যক্তের মাত্রা বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে তার মেয়েকে তিনি কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন একাডেমিতে ভর্তি করান। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে আল আমিন কর্তৃক তার মেয়ের গতিরোধ করা, কুপ্রস্তাব দেয়া ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করার মাত্রা বেড়ে যায়। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে দু’বছর আগের করা শালিসী বৈঠকে আল আমিন ও তার মামা হায়দার আলীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে মেয়েকে আর উত্ত্যক্ত করবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা নেন। তবে সে মুচলেকার কথা কয়েকদিনেই ভুলে যায় আল আমিন। উত্ত্যক্তের মাত্রা বাড়তে থাকায় এক পর্যায়ে তার মেয়ের স্কুলে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হতে থাকে।

মোবারক হোসেন বলেন, তিনি মেয়েকে সঙ্গে করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে থাকেন। আল আমিন সুযোগ বুঝে তার বাড়িতেই ঢিল ছোড়া, শিষ মারাসহ তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত চালিয়ে যায়। উপায়ন্তর না দেখে চলতি বছরের ১৬ মে তিনি তার মেয়েকে দিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি আবেদন করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থানার তৎকালীন এসআই মহসিন আলীকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এসআই মহসিন আবারো বিষয়টি উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে মীমাংসা করে দেন। ইতোমধ্যে মেয়েটি জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করে।
তিনি বলেন, গত রোববার তার মেয়ে বাড়িতে অবস্থানকালীন আল আমিন ঘরের জানালা দিয়ে মেয়েটিকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তিনি দেখতে পেয়ে আল আমিনকে ধরতে তার পিছু নিলে সে তাকে মেরে জখম করে। তিনি কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে আল আমিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এখানেও তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মোবারক হোসেন আকুতি জানান, তার মেধাবী মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রশাসনসহ সবাই এগিয়ে আসুন।



« (পূর্বের সংবাদ)