মেইন ম্যেনু

বগুড়ার শেরপুরে ফুটপাত দখল করে প্রকাশ্যে অস্বাস্থকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে ইফতারি সামগ্রী

সংযমের মাস রমজান। আত্মসুদ্ধির জন্য এ মাসে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরা রোজা পালন করে থাকে। সারাদিনে রোজা থাকা শেষ হয় ইফতারির মধ্য দিয়ে। নানা রকম খাদ্য সামগ্রীর মিশ্রনে তৈরি হয় সুস্বাদু ও বাহারী ইফতারির খাবার। সেই ইফতারি যদি তৈরি হয় ভেজাল সামগ্রী ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাহলে কোথায় দাঁড়াবে সাধারণ মানুষ। শুধু তৈরি নয় অবাধে বিক্রিও হচ্ছে ফুটপাত এবং হোটেল রেস্তোরার সামনের খোলা জায়গায়।

বগুড়ার শেরপুর পৌরশহর ভেদ করা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাত দখল করে এসব ইফতারি সামগ্রী বিক্রির ফলে পথচারীদের চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারি সামগ্রী তৈরি ও বিক্রয় বন্ধে নেই প্রশাসনের কোন ভেজাল বিরোধী অভিযান। ফলে বেপরোয়া হয়ে পড়ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা এবং শারীরিক ও মানষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সারাদিনের কর্মব্যস্ত রোজাদার মুসুল্লীরা।

গতকাল শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত দখল করে হোটেল সুপার সাউদিয়া, আঁখিমণি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টসহ বেনামী অনেক ইফতারী খাদ্য বিক্রেতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার উপর টেবিল বসিয়ে প্রকাশ্যে ইফতারি সামগ্রী বিক্রি করছে।

চোখে পড়েনি বিক্রির উপযোগী খাদ্য সামগ্রীরগুলোর উপরে কোন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এতে সড়কে যানচলাচলের কারণে ধূলোবালি উড়ে এসে ও মাছি পড়ে খাদ্য সামগ্রী অস্বাস্থকর হয়ে খাবার অনুপযোগী হচ্ছে। তবুও সাধারণ রোজাদার মানুষেরা তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য হুজুগে বাঙালির মতো ভবিষ্যতে শারীরিক ক্ষতির আশংকা জেনেও কেনাকাটা করছে এবং খাচ্ছে।

এসব ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর ইফতারি সামগ্রী খেয়ে রোজাদার মানুষদের শারীরিকভাবে আমাশয়, ডায়রিয়া, গ্যাস এমনকি কিডনী ও লিভারের জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছে শেরপুর উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তায়েব ইবনে জাহাঙ্গীর।

অন্যদিকে এসব ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর ইফতারি সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি বন্ধে সারাদেশে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জেল জরিমানা হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বগুড়ার শেরপুরে এখন পর্যন্ত কোন অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় সচেতনমহলে অভিযোগ উঠছে খোদ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফিরুজুল ইসলাম জানান যে কোন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।