মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফিরিয়ে আনতে অর্থ বরাদ্দ

বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনি এবং হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কানাডা থেকে খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক দিন ধরেই কূটনৈতিক পর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ খুব শিগগির বাস্তবায়ন হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু আইনি জটিলতা দূর করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি ডিও লেটার দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বাজেট অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৮৮২ আইন সংক্রান্ত ব্যয় খাতে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। ওই খাত থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যবহার করা যাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হোমায়রা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪৮৮২ আইন অনুযায়ী ব্যয়খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী একদল সেনা সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হানা দিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। দীর্ঘদিন এ হত্যার বিচার দূরের কথা, আত্মস্বীকৃত খুনিদের সহায়তা শুধু নয়, তাদের বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিচার থেকে রক্ষা করার জন্য খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে খুনিদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আইনগত বাধা দূর করতে জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হয়।

২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার পাঁচ খুনি ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর সাতজনের মধ্যে আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, মোসলেমউদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও আবদুল মাজেদ বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। এদের মধ্যে নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত অপরজন আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নূর চৌধুরী কানাডায়, এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে, আবদুল মাজেদ ভারতে অবস্থান করছেন। রিসালদার মোসলেহউদ্দিন ভারতে মারা গেছেন বলে গুজব রয়েছে। শরিফুল হক ডালিম, আবদুর রশীদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত না হলেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে তৎপরতা চলছে। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর একে একে প্রত্যেককেই দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে সূত্র জানান।