মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সেই সাইকেলটি জাদুঘরে হস্তান্তর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সেই বাইসাইকেলটি জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মধুপুর গ্রামের ওয়াজেদ মণ্ডল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ কাছ আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেলটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় জাতীয় জাদুঘরের কিপার ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রেশন অফিসার মো. আবু ইউনুস, বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান, সাংবাদিক ও লেখক বাবু মল্লিকসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাইকেলটি হস্তান্তরের পর ওয়াজেদ মণ্ডল এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আজ আমি গর্বিত। বঙ্গবন্ধুর কাছে দেওয়া কথা আমি রাখতে পেরেছি।’

এ সময় জাতীয় জাদুঘরের কিপার ড. স্বপন কুমার বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সাইকেলটি দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করে রাখার জন্য ওয়াজেদ মণ্ডলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানা যায়, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী রাজবাড়ীর আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরী ও পাংশার আবদুর রহমানের প্রচারের কাজে রাজবাড়ী এসে বেশ কয়েক দিন অবস্থান করেন শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাইসাইকেলে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের কাছে যেতেন বঙ্গবন্ধু। একদিন বেলগাছি এলাকায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাইকেলটি নষ্ট হয়ে যায়। তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে নিকটবর্তী দলীয় নেতা জৌকুরা গ্রামের মরগুব আহম্মেদ ওরফে মোনাক্কা মিয়ার বাড়িতে যান। বালিয়াকান্দির মধুপুর গ্রামের ওমেদ আলী মণ্ডরের ছেলে ওয়াজেদ আলী মণ্ডল ওই দিন সাইকেলে করে মামা মোনাক্কা মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যান। বঙ্গবন্ধু তার সাইকেলটি দেখে তা ব্যবহারের জন্য চাইলে ওয়াজেদ সানন্দে রাজি হয়ে যান।

পরে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় রাজবাড়ির আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল ওয়াজেদ চৌধুরীর বাসায় ওয়াজেদ মণ্ডলের সাইকেলটি তাকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের সাইকেলটি নিয়ে যান।

ওয়াজেদ মণ্ডল জানান, ১৯৪৮ সালে ২২০ টাকায় ডানলভ কোম্পানির সাইকেলটি তিনি কিনেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একবার দেখা হলে তিনি তার মৃত্যুর পর সাইকেলটি জাদুঘরে দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।