মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ঝুলিয়ে দোকানঘর দখল!

প্রথম দর্শনে কেউই বলতে পারবে না মাত্র কয়েকদিন আগেও এটি একটি পানের দোকান ছিল। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতের আঁধারে দোকানঘর দখলে নেয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় ঘরের ভিতরে কিছু চেয়ার-টেবিল বসানোর সাথে টানানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি। এ ঘটনা চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিরবাজারের।

স্থানীয়রা সংবাদকর্মীদের জানান, ১৫ বছর ধরে কালিরবাজারে পানের ব্যবসা করে আসছিলেন জনৈক ব্যবসায়ী লেদু মিয়া মোল্লা। প্রতিদিনের মতো গত ২৬ জুলাই রাতে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ওই রাতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এসে লেদু মিয়ার দোকানের মালামাল রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় তারা দলীয় সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দোকানঘর দখল করে নেয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে দলীয় ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে, নিজের দোকানঘর ফিরে পেতে ষাটোর্ধ্ব ব্যবসায়ী লেদু মিয়া মোল্লা বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী লেদু মিয়া জানান, গত ২৬ জুলাই রাতে তিনি দোকানে বেচাকেনা শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর সকালে এসে দেখেন দোকানের কোনো চিহ্ন নেই। ঘরের ভেতর ঝুলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। সামনে দুটি বাঁশ পুঁতে তাতে ঝুলানো হয়েছে একটি সাইনবোর্ড।

এতে লেখা রয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৪নং ইউনিয়ন কার্যালয়। এমন দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়েছেন বলে জানান লেদু মিয়া।

faridgonj2বাজারের একটি গলির ওপর দোকানের মালামাল (পান, সুপারি, তামাকপাতা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম) এলোমেলো অবস্থায় পড়েছিল জানিয়ে লেদু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ঘরে ব্যবসা করছেন তিনি। স্থানীয় দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান জমাদারের কাছ থেকে দোকানঘরটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার দু’ছেলে খোরশেদ আলম ও শরিফ জমাদারকে ভাড়া দিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া নবায়ন করেছেন। দোকান হারিয়ে এখন তিনি বড় অসহায় হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম সোহেল জানান, এখানে কিছু সরকারি খাস সম্পত্তি রয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৪নং ইউনিয়ন কার্যালয়ের করার লক্ষ্যে লিজ প্রাপ্তির জন্য তিনি নিজে গত ২৫ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসে আবেদন করেছেন। সেই মোতাবেক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলীয় কার্যালয় স্থাপন করেছেন। রাতের অন্ধকারে দোকান উচ্ছেদ ও ভূমি দখল বিধি সম্মত কি না এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। লিজ পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবশ্যই আমরা লিজ পাবো বলে আশাবাদি।’

এদিকে উচ্ছেদ করা দোকান ঘরের মালিক শরিফ জমাদার জানান, তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে কোনো খাস ভূমি নেই। সাফ কবালা দলিল, জমা খারিজ খতিয়ান, বিএস খতিয়ান ও খাজনা দাখিলসহ যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। প্রায় ৪০ বছর যাবৎ বংশ পরম্পরায় এই সম্পত্তি আমরা ভোগ দখল করছে। ঘটনার বিষয়ে বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার ও এসিকে (ল্যান্ড) লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

এ ব্যাপরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। এতে করে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লতিফ পণ্ডিত জানান, যে স্থানে দোকানঘরটি রয়েছে এই জায়গার কিছু অংশ সরকারি। তবে রাতের আঁধারে কে বা কারা তা দখলে নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়েছে তা তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার ব্যাপারে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তবে কেউ আবেদন করেই কোনো ভূমির দখল নিতে পারে না। সেখানে কোনো খাস জমি আছে কিনা তা সার্ভে করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।