মেইন ম্যেনু

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী মুহিতুল আর নেই

অবশেষে চলেই গেলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী এএফএম মুহিতুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা রেখে গেছেন। মরহুম মুহিতুল ইসলামের দুটো কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল ছিল। এছাড়াও তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৮ দিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ কয়েকদিন তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্যের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য বলেন, দুপুর দুইটা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তার বড় ভাই মনিরুল ইসলামের ছেলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাদ আসর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ প্রঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ যশোরের মনিরামপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার স্ত্রী অসুস্থ এবং তিনি রাজধানীর শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

৬৩ বছর বয়সী এ মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ হাসপাতালে ছুটে যান।

কিডনির সমস্যা নিয়ে গত ১২ জুলাই থেকে এ হাসপাতালে ভর্তি হন মুহিতুল এবং বিএসএমএমইউর নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলমের অধীনে চিকিৎসীন ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়। ফের অবস্থার অবনতি হলে গত ২৬ জুলাই পুনরায় আইসিইউতে নেয়া হয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী ও এক নম্বর সাক্ষী এএফএম মুহিতুল ইসলামের বড় ভাই মনিরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুল ইসলাম পিটুল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, যশোর জেলার মনিরামপুরের কাশিপুরে আমাদের বাড়ি। মামলার কারণে আমাদের পরিবারের ওপর অনেক হুমকি এসেছিল। কিন্তু চাচা মুহিতুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। তিনি কাউকে ভয় পাননি। তার শেষ ইচ্ছা ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় যাদের এখনও ফাঁসি হয়নি, যারা পলাতক আছেন, তাদের এনে ফাঁসিতে ঝোলানো। বিচার কার্যকর করা।

পিটুল বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর রেসিডেন্ট পিএ ছিলেন মুহিতুল ইসলাম। শেখ রাসেল তাকে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকতেন। বাড়ির ভেতরে বিকালে ফুটবল খেলতেন তারা দু’জনে। শেখ রাসেলকে তার বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাথায় গুলি করা হয়েছিল, যা কখনোই তিনি ভুলতে পারেননি। ওই সময়ে তার (চাচার) পায়েও গুলি লেগেছিল।

তিনি সব সময় বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা এবং তার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রশংসা করতেন। তিনি বলতেন, বঙ্গবন্ধু খুব উদার মনের মানুষ ছিলেন। সবাইকে বিশ্বাস করতেন। খুব সাধারণভাবে চলাফেরা করতেন। তার বাড়িতে যতটুকু নিরাপত্তা রাখা দরকার ছিল, ততটাও রাখতেন না। সবার সামনেই লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরতেন। খুব সাদামাটা থাকতেন। চাচা বলতেন, বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ওনার (বঙ্গবন্ধু) জন্য।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা প্রসঙ্গে তিনি বলতেন, তিনি বাসার সবাইকে সন্তানের মতোই দেখতেন। সবাইকে স্নেহ করতেন। সবাইকে একই খাবার দিতেন। কারও প্রতি ওনার নজর দু’রকম ছিল না।