মেইন ম্যেনু

বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরে শীঘ্রই ইমিগ্রেশন চালু হবে : নৌ পরিবহন মন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দর শীঘ্রই ইমিগ্রেশন চালু হবে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। শুক্রবার সকাল ১১টায় স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন শেষে সূধী সমাবেশে একথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ৪২ বছরের উন্নয়ন বঞ্চিত দেশের ঐতিহ্যবাহি চিলমারী নৌবন্দর উন্নয়নে যা কিছু করা প্রয়োজন সব কিছু করা হবে। এজন্য দেশের ১১৮টি নদী খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ১হাজার কিলোমিটার নদী পথ খনন করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রশ্নই আসেনা। আাগামী ২০১৯ সালে যথা সময়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী নির্বাচনে অস্তিত্ব রক্ষার জন বিএনপিকে অবশ্যই নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, এছাড়াও বন্দর উন্নয়নের জন্য ১৪.৬৮ একর জমিতে সোনাহাট স্থল বন্দর নামক প্রকল্পে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ২৫হাজার ৩০০ টাকা ধরা হয়েছে। পরে স্থলবন্দরের উন্নয়ন কাজে জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ছয় মালিকদের মধ্যে ৪০ লাখ ৯ হাজার ৪৩৪ টাকার চেক বিতরণ করেন। ক্ষতিপূরণের চেক পান যারা, মৃত খরিয়তুল্লাহ’র পুত্র আব্দুল হাই, আব্দুল মজিদ,আব্দুল আজিজ, মৃত খইমুদ্দিন শেখের পুত্র আব্দুল বাতেন, মৃত মনির উদ্দিনের পুত্র নফসার আলী, মৃত মসির আলীর পুত্র বয়তুল্লাহ শেখ। উদ্বোধনী সভায় শাজাহান খাণ তার বক্তব্যে বলেন যত দ্রুত সম্ভব এই সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু করা হবে। আওয়ামীলীগ সরকার দেশের ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এখানে ইমিগ্রেশন চালু হলে এখানকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। এ কারণে সরকার বিলম্ব করবেনা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, জেলা প্রশাসক ও সাবেক সাংসদ মো. জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাংসদ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারমান সিআইপি গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, বিআইডব্লিউআরটিএ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক প্রমূখ।

এরপর মন্ত্রী ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে সুধি সমাবেশে যোগ দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে ভূরুঙ্গামারী কলেজ মাঠে অবতরণ করেন। পড়ে সড়ক পথে বঙ্গসোনাহাট স্থল বন্দরে যান তিনি। পরে তিনি চিলমারী নৌবন্দরের কার্যক্রম উদ্বোধন এবং মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

চিলমারীবাসীর প্রাণের দাবি ‘চিলমারী নৌ বন্দরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় শক্রবার। নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি মুষুলধারে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বিকাল ৪টায় চিলমারী ঘাটে চিলমারী নৌ-বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭সেপ্টেম্বর চিলমারী সফরে এসে চিলমারী নৌ বন্দর করার ঘোষনা দেন। তার এ ঘোষনার ১৬দিনের মাথায় চিলমারী বন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। এর মধ্য দিয়ে বদলে যাবে এ জনপদের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা। বাড়বে রাজস্ব আয়। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্ম সংস্থানের। থাকবে না মঙ্গা, দুর হবে কষ্টের দিন। এমন সম্ভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মন্ত্রী রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৪ লাখ মানুষের যোগাযোগের জন্য ফেরী চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। চিলমারী-রৌমারী রুটে এ ফেরী চলাচল করবে। তবে এজন্য কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কেননা পল্টুন স্থাপন এবং লঞ্চ কিংবা স্টিমারের ব্যবস্থা করতে কিছুটা সময় লাগবে।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন-তা বাস্তবায়ন করেন। তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশে আমি এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে চিলমারীতে আসি। আজ থেকে শুরু হল চিলমারী বন্দরের কার্যক্রম। তিনি আরো বলেন, চলতি বছরে এখানকার নদ-নদীর ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আব্বাস উদ্দিনের ঐকিহাসিক গান ‘ওকি-ও গাড়িয়াল ভাই,হাকাও গাড়ি তুই, চিলমারী বন্দরে’। এক সময় এই চিলমারী বন্দরে ভারতের কুচবিহার, আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, চীন ও বার্মার অনেক জাহাজ এখানে নোঙ্গর করত। এ কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ছিল চিলমারী। সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান নৌ-পরিবহন মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সাংসদ একেএম মাঈদুল ইসলাম মুকুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সাংসদ মো. জাফর আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মন্ডল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর মোজাম্মেল হক, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক সফিকুল হক, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস সরকার, মতি শিউলী প্রমূখ। পরে মন্ত্রী থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত স্থানীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বীরবিক্রম।