মেইন ম্যেনু

বজ্রকঠিন আলিঙ্গনে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি!

ভালবাসা প্রকাশ না করলে অপরজনের বোঝার সাধ্য নেই যে আপনি সত্যিই ভালবাসেন কিনা৷ আর যদি বোঝাতে চান ঠিক কতটা ভালবাসেন, তবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন প্রিয়জনকে৷ আপনার সঙ্গী আপনার ভালবাসার পরিমাণ নিজেই বুঝে যাবেন৷ তা বলে ভাববেন না জড়িয়ে ধরলে শুরু ভালবাসাই বাড়ে৷ এর কিন্তু অনেক অন্যান্য গুণও রয়েছে৷

• সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোনের অনেক গুণ বর্তমান৷ এমনটা করলে অক্সিটোন নামের একপ্রকার হরমোন নিঃসৃত হওয়া৷ এটি একপ্রকারের ফিল গুড হরমোন৷ এ হ্যাপি ইউ: ইয়োর আল্টিমেট পারসেপশন ফর হ্যাপিনেস নামক বইয়ে লেখিকা, মনোবৈজ্ঞানিক ও ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট এলিজাবেথ লোম্বার্ডো বলেছেন, এমন করলে মানসিক খুশি অনেক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়৷ ডা. রেনে হোবোবিতজ জানিয়েছেন, প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় শুয়ে থাকলে, স্পর্শ করলে ও যৌনমিলন করলে মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নিঃসৃত হয়৷এরফলে আনন্দ অনুভূত হয়৷ এছাড়াও এই প্রক্রিয়ায় এন্ডোরফিন নামক একপ্রকার হরমোনও নিঃসৃত হয়৷ যা সাধারনত এক্সারসাইজ বা চকলেট খাওয়ার পর নিঃসৃত হয়ে থাকে৷

• জড়িয়ে ধরে শোয়ার ফলে সাধারণত সহবাসের ইচ্ছা জাগ্রত হয়৷ এরফলে ডোপামাইন নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়৷ যা সহবাসের ইচ্ছাকে আরও বাড়িয়ে দেয়৷ এবং এটি প্রমাণিত যে সহবাস মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সক্ষম৷

• স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কোচ এবং হোলিক্টিক থেরাপিস্ট ক্যাথরিন কোনর্স বলছেন, শারীরিক সম্পর্ক মানসিক অবসাদ কম করে৷ জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া বা অন্যান্য শারিরীক সম্পর্কের ফলে অক্সিটোসিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়৷ এই হরমোনকে বন্ডিং হরমোন বলে৷ এই রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলে কেবল রক্তচাপই কম হয় না, এমনকি হৃদরোগের ঝুঁকিও কম হয়৷

• বিখ্যাত ডা. ফ্রান ভেলফিশ মনে করেন, জড়িয়ে ধরা মানুষের জন্য ভাল৷ তার কারণ এটি দু’টি মানুষের মধ্যে ভাবনাত্মক রূপকে জুড়তে সাহায্য করে৷ অক্সিটোসিনের মাত্রা কিন্তু শিশুর জন্ম ও ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত৷ সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অক্সিটোসিনের ফলে একজন মা তার সন্তানের সঙ্গে ভাবনাত্বক ভাবে যুক্ত হন৷ ফলে শিশু নিজেকে অনেকবেশি সুরক্ষিত বলে মনে করে৷ ডা. ভেলফিশের মত অনুসারে, জরুরী নয় যে সব সময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে হবে৷ তবে, একে অপরের মধ্যে একটা কমফোর্ট জোন থাকা অতি আবশ্যক৷

• শিকাগোর বিখ্যাত চিকিৎসকেরা ঘনিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে বলেছেন, এর ফলে একে অপরকে জানা অনেক বেশি সহজ হয়৷ ফলে পরস্পরের মধ্যে বন্ধন অটুট থাকে৷