মেইন ম্যেনু

বন্দিদের অঙ্গ কেটে আহত যোদ্ধাদের শরীরে প্রতিস্থাপন করছে আইএস!

ইসলামিক স্টেট (আইএস) আহত যোদ্ধাদের প্রাণ বাঁচাতে বন্দিদের অঙ্গ কেটে নিয়ে তাদের শরীরে প্রতিস্থাপন করছে। ২০১৫ সালের মে মাসে মার্কিন অভিযানে আইএসের কাছ থেকে কিছু নথি পাওয়া যায়। সে নথি পর্যালোচনা করে রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

এর আগে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল মাকুষের শরীরের অঙ্গ পাচার করে অর্থ সংগ্রহ করছে তারা। ইরাক প্রথমবারের মধ্যে এই অভিযোগ তুললে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামিক চিন্তাবদিদরা আইএসের এ ঘৃণ্য কাজের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের সমালোচনা করেছিল। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে, বন্দিদের শরীর থেকে অঙ্গ কেটে আহত আইএস যোদ্ধাদের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এতে বন্দিরা মারা গেলেও কোনো সমস্য নেই। আইএসের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘কাফেরদের’ জীবনের বিনিময়ে হলেও মুসলিমদের রক্ষা করা জায়েজ আছে।

তবে কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ওই নথির বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত মে মাসে পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সময় কিছু নথি তাদের হাতে এসেছে। আর এসব নথিতে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও পাচারের কিছু তথ্য রয়েছে।

ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে আইএসের ফতোয়া কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া ফতোয়া নম্বর ৬৮-এ বলা হয়েছে, ‘বিধর্মীদের জীবন ও তাদের অঙ্গগুলোকে সম্মান দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বন্দিরা বাচুক কিংবা মরুক, তাদের অঙ্গগুলো কেটে আহত যোদ্ধাদের শরীরে লাগানো যেতে পারে।’

তবে নথিতে ‘বিধর্মী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তার অর্থ স্পষ্ট করা হয়নি। আইএসের হাতে মারা গেছে অনেক অমুসলিম। এদের মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টান, শিয়া এবং যেসব সুন্নি মুসলিম তাদের চরমপন্থার প্রতি সমর্থন দেয়নি, তারা। বিধর্মী বলতে তাদের বোঝানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের সমন্বয়ক বিষয়ক বিশেষ দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক বলেন, ‘মে মাসে পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানকালে আইএসের প্রধান কোষাগার রক্ষক আবু সায়েফ নিহত ও তার স্ত্রী আটক হন। তাদের কাছে রক্ষিত সাত টেরাবাইটের কিছু ডাটা উদ্ধার করা হয়। এসবের মধ্যে ছিল কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক, আঙুলের ছাপ নেওয়ার যন্ত্র, সিডি, ডিভিডি ও বেশ কিছু লিখিত তথ্য।’

আবু সায়েফ ছিলেন তিউনিশিয়ার নাগরিক। তার আসল নাম ফাতহি বিন আওয়ান বিন জিলদি মুরাদ আল তিউনিশি। আইএসের এই প্রধান কোষাগার রক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া অল্প কিছু নথি কেবল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পুরো নথি পাওয়া না যাওয়ায় বন্দিদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও পাচারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স অনলাইন।