মেইন ম্যেনু

বন্দুদের সাথে মিশতে সমস্যা? তবে এই টিপস আপনার জন্য

ছোটবেলা থেকেই আরিফ খুব কম বন্ধুদের সাথে মিশে। কোথাও খেলতে যায় না। সবাই খেলাধুলা করলেও আকিব একাই চুপ করে বসে থাকে। একা একা ঘোরাঘুরিই তার বেশী পছন্দ। এ জন্য কত কথাই বলেছে খেলার সাথীরা। এমনকি অনেক বন্ধুদের মায়েরাও নানা কথা বলত। এখন আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। নতুন পরিবেশ খাপ খাওয়াতেও হিমশিম লাগছে। এখন কি করবে আরিফ। আগের মত একলাটি তো বসে থাকা যাবে না আবার কারো সাথে গিয়ে যে মিশবে তাও পারছে না। বেশ একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন এখন আরিফ।

বন্দুদের সাথে মিশতে সমস্যা? তবে এই টিপস আপনার জন্য।
আরিফের মত হয়ত অনেকেই আমরা আছি যারা ছোটবেলা থেকেই একটু একা থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। কিংবা আগে খেলাধুলা করলেও এখন কেন যেন সবার সাথে আগের মত মিশতে পারছি না। আসলে এমন পরিস্থিতিতে কে কি করব এটা বোঝাটা খুব সহজ নয়। আর এই লেখনী যে সবার জন্য সমান কাজে লাগবে তাও নয়। কারণ প্রত্যেকের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও আত্ম-ধারণায় রয়েছে ভিন্নতা। তবে এখানে সাধারণ কিছু তথ্য আমরা জানতে পারব যেটা কিছুটা হলেও সামাজিক পরিবেশে নিজেকে মানুষের সাথে মিশতে সহযোগীতা করবে।
একটা কথা আছে আগে ঘর তবে তো পর। ঠিক তাই আমরা যারা অন্যদের সাথে মিশতে সংকোচ বোধ করি বা অসুবিধায় পড়ি তারা যদি একটু নিজের দিকে মনোযোগ দিই, দেখব আমার নিজের সাথেই আমার সম্পর্ক যেন কেমন কেমন। তাই নিজের সাথে নিজের ব্যক্তিত্বের একটা সুন্দর মিশেল তৈরি করতে হবে। নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করুন।
আমাদের প্রত্যেকের ’ব্যক্তিত্ব্’ বলে একটা উপাদান রয়েছে। অনেকেই আমরা ব্যক্তিত্বের ধরণ কেমন হবে ভিন্ন ভিন্ন মত দেই। তবে ব্যক্তি নিজে যেমন সেটা প্রকাশ করাই ব্যক্তিত্বের মূল শক্তি। তাই কেউ খুব ভাব গম্ভীর আচরণ করলেই যে সে খুব ভারী ব্যক্তিত্বের সেটা কিন্তু ভুল ধারণা। নিজে যেমন তেমনই থাকুন।
খেয়াল করুন আপনি যে পরিবেশে আছেন সেখানে অন্যরা কে এবং কি বা তাদের পরিচয়। তাদের পেশা, পড়াশুনা, বেড়ে ওঠা বিভিন্নরকম। অথবা হয়ত একই পেশার ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতার মানুষ। তাদের সম্পর্কে জানার কৌতুহল তৈরি করুন। আমরা একেকজন হয়তো একেক জায়গা থেকে এসেছি। একে অন্য সম্পর্কে জানতে আমাদের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এই কৌতুহল যেন অন্যের বিরক্তির কারণ না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।
আলোচনা বা কথোপকথন যদি আনন্দদায়ক হয় তাহলে তাতে অংশ নিন। একই সাথে অন্য কেউ কষ্টের কথা প্রকাশ করলে তাকে সমবেদনা জানান। নিজের বক্তব্য বা অনুভূতিগুলোও প্রকাশ করুন। কারণ এই অনুভূতির সুস্থ লেনদেনই একটি মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের সুসম্পর্ক তৈরি করে।
অনেকসময় পছন্দ ভিন্ন হলে মানুষের সাথে মিশতে সংকোচ লাগে। সেই ক্ষেত্রে একটা বিষয় ভাবুন এই যে সারা পৃথিবীতে আমরা এত মানুষ বসবাস করছি আমরা কিন্তু পছন্দ বা মত বা অন্য যে কোন কিছুর ভিন্নতার পরেও একই পৃথিবীতে আছি। তাহলে অন্য ব্যক্তিটিও এর ব্যতিক্রম নয়। মানুষের মতামত, পছন্দ, শিক্ষা, ব্যক্তিগত অনুভূতি, অভিজ্ঞতা যে ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক।

আসুন নিজেকে মন খুলে শ্রদ্ধা করি এবং অন্যের প্রতিও শ্রদ্ধাবোধ লালন করি। এভাবেই ঝেড়ে ফেলি নিজের অপ্রয়োজনীয় সংকোচ যা সামাজিক পরিবেশে আমাকে বিব্রত করে।

পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। কে জানে হয়ত আপনার কারনেই আপনার পরিচিত কারো জীবনের মোড় ঘুরে যেতে পারে।