মেইন ম্যেনু

বন্ধুহীন জীবন যে কারণে ভয়ানক

মানুষ সামাজিক জীব। একে অপরের ওপর নির্ভর করেই মানুষ জীবনযাপন করে। এই সামাজিকতার মাঝেই গড়ে ওঠে মানুষের বিভিন্ন সম্পর্ক। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হচ্ছে, বন্ধুত্ব।

আপনি কী জানেন যে, বন্ধুহীন জীবন শুধু মানসিক স্বাস্থ্যই নয় বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও খারাপ!

বন্ধুত্বের সংজ্ঞা নানান ভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যায়। জর্জ হার্ভার্ট বন্ধুর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘একজন বন্ধু হলো সর্বোৎকৃষ্ট আয়না।’

বন্ধুত্ব আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্ক। মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বন্ধুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা বন্ধুর সঙ্গেই আমাদের মনের কথা আদানপ্রদান করে থাকি। জীবনের বিভিন্ন সমস্যা বন্ধুদের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া যায় ও এর সমাধানও করা যায়।

সামাজিক সম্পর্ক গঠনে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুত্বের মাধ্যমে আমাদের ইন্দ্রিয় আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

হার্ভার্ড এর মহলাদের ওপর একটি গবেষণায় জানা যায়, বন্ধুহীন থাকা ধূমপানের মত খারাপ। গবেষকদের মতে, সামাজিক দূরত্ব আমাদের জিনের অভ্যন্তরীণ মৌলিক কার্যকলাপকে কমিয়ে দেয়।

গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘকাল নিঃসঙ্গ মানুষের জিন ইমিউন সিস্টেম অ্যাক্টিভেশন (যেমন প্রদাহ) বাড়ায় কিন্তু অ্যান্টিবডি উৎপাদন বা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিয়ে দেয়।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে বন্ধুত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সম্পর্কের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক জরুরি।

২০১০ সালে ১৪৮টি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্কে জড়িত থাকা মানুষ অন্যান্য দুর্বল সম্পর্কের মানুষের তুলনায় ৫০ গুণ বেশি বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে। এ ধরনের আরো বিস্তারিত গবেষণায় বলা হয়েছে, শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিভিন্ন রোগের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে।

২০০৬ সালের একটি গবেষণায় প্রকাশ করা হয় সামাজিক বন্ধুত্ব কার্ডিওভাসকুলার ও নিওরো এন্ডোক্রনি সিস্টেমের ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে।

নিজেকে ভালো বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে এমন কাউকে চিহ্নিত করে অনুসরণ করুন যার মাঝে বন্ধুসুলভ ভালো গুণাবলী রয়েছে।

শুধুমাত্র মানসিক বিপর্যয় রোধের জন্য নয়, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্যও বন্ধু প্রয়োজন। তাই নিজে সবার আগে বন্ধু সুলভ আচরণ করুন। দেখবেন চারপাশের অনেকেই আপনার ভালো বন্ধু হয়ে গেছে।