মেইন ম্যেনু

বন্যহাতির হানায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলার জনবসতি এবং ফলদ ও বনজ বাগানে নিত্য হানা দিচ্ছে বন্যহাতির দল।

গত এক সপ্তাহে বন্যহাতির তা-বে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন ফলদ বাগান ও ঘরবাড়ি। এতে কমপক্ষে অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। প্রয়োজনী জনবল না থাকায় বনকর্মীদের পক্ষেও হাতি তাড়ানো অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতি রাতেই ৫০-৬০টি বন্যহাতির দল কাপ্তাই উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া, রাইখালী, কারিগর পাড়া, ডংনালা, বালুছড়া, কাপ্তাই নেভি রোড, জীবতলী-রাঙ্গামাটি সড়ক এলাকার লোকালয় এবং বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বাগানে তা-ব চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যহাতির দল রাইখালী বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় তা-ব চালিয়ে যাচ্ছে। রাইখালী, পূর্ব কোদালা, কারিগর পাড়া, ডংনালা, বালুছড়া, কাপ্তাই নেভি রোড, জীবতলী-রাঙ্গামাটি সড়ক এলাকার লোকালয় এবং বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বাগানে হাতির দল প্রবেশ করে স্থানীয়দের বাড়িঘর ভেঙে তছনছ করে দেওয়ার পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, লিচুবাগান ধ্বংস করছে।

স্থানীয় বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ বলেন, প্রতিরাতে বন্যহাতির দল বাগানে ঢুকে ফলদ বাগানগুলো ধ্বংস করছে। বাগান থেকে আম-কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল সংগ্রহের এ সময় হাতির আক্রমণের ফলে বাগান মালিকরা লাখ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বন্যহাতির পাল আক্রমণ চালিয়ে তছনছ করেছে কারিগর পাড়া, বালুছড়া এলাকার বেশ কয়েকজনের আম ও লিচুর বাগান। এ ছাড়া হাতির পাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে ২০ থেকে ২৫টি কাঁচা ঘরবাড়ি।

গত সপ্তাহে বন্যহাতির দল কাপ্তাই নেভি রোডে কাপ্তাইয়ের পুলিশের এএসপি সার্কেলের সরকারি বাসাতেও হামলা চালিয়েছে। হাতির আক্রমণের ভয়ে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত লোকজন রাতে বাড়িতে ঘুমাতেও পারছে না। এসব ব্যাপারে স্থানীয় বনকর্মীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেও কোনো সুফল মিলছে না।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগীয় কর্মকর্তা আ ন ম আবদুল ওয়াদুদ বলেন, হাতির নিরাপদ আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং পাহড়ে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেওয়ায় বন্যহাতির পাল লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

হাতিকে নিবৃত করতে এবং আক্রমন থেকে জানমাল রক্ষা করতে সরকারের বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমানে বন বিভাগের যে জনবল রয়েছে তাতে বনকর্মীরা হাতির আক্রমণ মোকাবেলা বা হাতিকে গভীর বনে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় না। তবু বনকর্মীরা বনাঞ্চলে সাধারণ মানুষকে বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।