মেইন ম্যেনু

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী নাজিরবাড়ি ভূমিদস্যুদের দখলে

নগরীর গোড়াচাঁদ দাস রোডের উষা সেন গুপ্তের ঐতিহ্যবাহী নাজিরবাড়িটি ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। ভূয়া দলিল আর অস্থিত্বহীন ব্যক্তির নামে ডিগ্রি হাসিল করে এ বাড়িটি চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী তৈরিকারী একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর কাছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়ির সহয় সম্পত্তি দখল করার জন্য ওই বাড়িতে বসবাসকৃত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে আতংক ছড়িয়ে দিতে অজ্ঞাতনামা দুবৃত্তরা বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করা গোপাল রায় চৌধুরীকে ২০১৪ সালে গুম করে। সেই থেকে অদ্যাবধি তার কোন সন্ধান মেলেনি। ঐতিহ্যবাহী এ বাড়িটি রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন থেকে ওই বাড়িতে বসবাস করা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরো সম্পত্তির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও দখলকারীরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নতুন ভবন নির্মানের কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে নগরীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রমতে, নগরীর বগুরা আলেকান্দা মৌজার জেএল নং-৫০, খতিয়ান-নং ২৫৩৮, ২৫৪০ দাগের ২৮শতক সম্পত্তির মালিক উষা সেন গুপ্ত। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫কোটি টাকা। তিনি (উষা সেন) মৃত্যুর পূর্বে তার দেখাশুনা করা রবীন্দ্রনাথ দাস গুপ্তকে ১৯৮৩ সালে বাড়িসহ পুরো সম্পত্তি উইল করে দিয়ে যান। রবীন্দ্রনাথ দাস গুপ্ত ছিলেন অবিবাহিত। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তার পালিত পুত্র কিশোর কুমার দাস গুপ্ত সম্পত্তি দেখাশুনা ও ভোগদখল করে আসছেন। হিন্দু আইন অনুযায়ী পালিত পুত্র সম্পত্তি ভোগ দখল করতে পারবেন। এরইমধ্যে ২০১৪ সালে নাজিরবাড়ির সহয় সম্পত্তির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আব্দুল মান্নান সন্নামাত ওরফে রুপাই নামের এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর। তিনি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জনৈক বাদল কুমারের (অস্থিত্বহীন ব্যক্তি) নামে ভূয়া ডিগ্রি করে উক্ত সম্পত্তির মালিক হয়ে এম.ই.পি কোম্পানীর কাছে চড়ামূল্যে বিক্রি করেন।

রবীন্দ্রনাথ দাস গুপ্তর পালিত পুত্র কিশোর কুমার দাস গুপ্ত জানান, এ ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে বরিশাল প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ভূমিদস্যু আব্দুল মান্নান সন্নামাত রুপাইসহ ১৭জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনি আদালত থেকে উক্ত সম্পত্তির ওপর জরুরী অবস্থা (স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) জারি করিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ অমান্য ও মামলা চলাকালীন সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালীরা বাড়ির চারদিকে টিনের সেট দিয়ে ঘিরে বাড়ির পেছনের সম্পত্তিতে ভবন নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি আরও জানান, ভূমিদস্যু রুপাই ভূয়া দলিল আর ডিগ্রির মাধ্যমে এ সম্পত্তি বিক্রি করেছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে প্রভাবশালীরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি তার বাড়ির সামনে বিভিন্ন সময় একটি কালো রংয়ের গাড়ি অবস্থান করায় তিনি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে নাজিরবাড়িতে আশোক কুমার রায়, দীলিপ কুমার রায়, স্বপন কুমার রায়, রনজিত কুমার রায়, শিলা চক্রবর্তী ও গোপাল রায় চৌধুরী বসবাস করে আসছেন। এরইমধ্যে ওই বাড়িটি দখল করার জন্য অজ্ঞাতনামা দুবৃত্তরা গোপাল রায় চৌধুরীকে ২০১৪ সালে গুম করেন। সেই থেকে অদ্যবর্ধি তার কোন সন্ধান মেলেনি। অন্যান্য সংখ্যালঘুদেরকেও বাড়ি ছাড়ার জন্য অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে বলেও কিশোর কুমার দাস গুপ্ত উল্লেখ করেন। ভূমিদস্যুদের কবল থেকে ঐতিহ্যবাহী এ বাড়িটি রক্ষার জন্য তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান সন্নামাত রুপাইর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভবন নির্মান কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এম.ই.পি কোম্পানীর কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ জানান, ২০১৪ সালে তাদের কোম্পানী উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে বাড়িটির পেছনের সম্পত্তিতে টিনসেট ভবন র্নিমানের কাজ চলছে। পরবর্তীতে পুরনো এ বাড়িটিকে ভেঙ্গে ফেলা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।