মেইন ম্যেনু

বরিশালে দলীয় কোন্দলের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল: কাউন্সিলের আড়াই মাস পার হলেও পদ পদবীর লড়াইয়ে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারন করায় ক্রমেই ঝিমিয়ে পড়েছে বরিশালে বিএনপির রাজনীতি। একসময়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীল পদ, দলের মনোনীত সাংসদ ও বিগত ওয়ান ইলেভেনে দলের দুঃসময় থেকে শুরু করে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মাঠে থাকার কারণে কারাবরনকারী সিনিয়র নেতাদের কমিটিতে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় সূত্রমতে, দুর্দীনের নেতাদের দলীয় কোন্দলের কারণে কমিটিতে স্থান না দিয়ে সুবিধাবাদীদের স্থান দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ আড়াই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করায় এবং দুর্দীনের যোগ্য নেতারা সঠিক মূল্যায়িত না হয়ে ও সদ্য কমিটিতে স্থান পাওয়া বরিশালের নেতা-নেত্রীরা স্থানীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রাখায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। এ অবস্থায় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্দীনের অনেক ত্যাগী নেতা অতিগোপনে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়াসহ প্রবাসে স্থায়ী বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেকারণে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আ’লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল-১ আসনে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার হ্যাভিওয়েটের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচনী আসনটি দখল করে নেয় বিএনপি দলীয় প্রার্থী এম. জহির উদ্দিন স্বপন। এজন্য তাকে (স্বপন) ওইসময় পুরস্কার স্বরূপ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদকের পদটি উপহার দিয়েছিলেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারের ধূয়া তুলে জহির উদ্দিন স্বপনসহ জেলার বেশ কয়েকজন এমপিকে দলের কতিপয় সিনিয়র নেতার পরামর্শে অদ্যবধি পর্যন্ত দলের বাইরে একঘরে করে রাখা হয়। সেই থেকে আজও দলের চেয়ারপার্সনের ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বপনসহ সংস্কারের কথা বলে দূরে রাখা সাংসদ ও তাদের অনুসারীরা। তাদের ধারনা ছিলো দলের দুর্দীনের মধ্যে গত আড়াই মাস পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া কাউন্সিলে চেয়ারপার্সন তাদের ডাক দেবেন। কিন্তু তাদের শেষ ধারনাও বিফল হয়েছে। ফলে ওই শিবিরে এখন করুন সুর বাঁজতে শুরু করেছে।

অপরদিকে বিগত ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকার বিএনপি দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান নেতৃত্ব দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন। যেকারণে কারাবরনও করতে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে। সোবহান অনুসারীরা বলেন, দলের চলমান অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে কতিপয় সিনিয়র নেতার যোগসাজসে দুর্দীনের ত্যাগী নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ না দিয়ে কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।

তারস্থলে কর্মীবিহীন সুবিধাভোগী নেতাকে পদ দেয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। একইভাবে জেলার মুলাদী এলাকার সাবেক সাংসদ মোশারফ হোসেন মঙ্গু, বাকেরগঞ্জের সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন, বানারীপাড়ার সাবেক সাংসদ শহীদুল হক জামালসহ দলের একসময়ের রাজপথ কাঁপানো নেতাদের দলের মধ্যে কোনঠাসা করে রাখায় দলের অভ্যন্তরীন বিরোধ ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্রমতে, এ অবস্থার মধ্যে অনেক নেতাই অতিগোপনে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়াসহ স্ব-পরিবারে প্রবাসে স্থায়ী জীবন যাপনের জন্য চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির নবগঠিত কমিটির যুগ্ন মহাসচিব ও সাবেক হুইপ এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বর্তমান সরকার বিএনপিকে নেতৃত্ব সংকটে ফেলতে চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দেয়াচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের এই কঠিন মুহুর্তে কারও ডাকের অপেক্ষায় না থেকে দলের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেয়ারপার্সনের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত। তিনি আরও বলেন, বিএনপি বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার যে উদ্দেশে বিএনপিকে দেশ থেকে নির্মূল করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে তা সফল হবে না। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াবে।