মেইন ম্যেনু

বরিশালে নারী শিল্পী নির্মান করছেন দূর্গা প্রতিমা

নাম সুইটি দাস। পেশায় একজন মৃৎ শিল্পী। নগরীর কাউনিয়া লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দিরের দূর্গামন্ডবে তৈরি করছেন দেবী দুর্গার প্রতিমা। বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে এরপূর্বে কখনো দেখা মেলেনি এমন নারী মৃৎ শিল্পীর। গোপালঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নইয়াবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও সুইটি ভারতের নয়াদিল্লিতে তার মামা ও পিসিদের কাছেই বড় হয়েছেন। সেখানে তিনি কিছুটা পড়াশুনাও করেছেন।

একান্ত আলাপনে ওই গ্রামের বাসিন্দা রমেশ দাসের কন্যা সুইটি দাস বলেন, ওই এলাকার (নয়াদিল্লি) এক চারুকলা স্কুলের শিক্ষক ও তার পিসাতো বোন রিঙ্কু হালদারের কাছ থেকে তিনি নকশা, আর্ট, প্রতিমা তৈরিসহ মাটির কাজ শিখেছেন। পরবর্তীতে সেখানে তিনি পিতলের ওপর নকশা, প্রতিমা তৈরীসহ মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরির কাজ করেছেন।

এ পেশাকেই আঁকরে ধরে তিনি নিজেকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে বিগত ১০বছর ধরে এপেশায় জড়িয়ে রেখেছেন। গত চার বছর পূর্বে তার মা মনিমালা দাস অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি ভারত থেকে দেশে চলে আসেন। এরপর স্থায়ীভাবে দেশে বসবাস করে গত তিনবছর ধরে তিনি নকশার কাজ করছেন। বর্তমানে তার এপেশার সাথে ওইগ্রামের আরো সাতনারী উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

সুইটি দাস আরও বলেন, দেশে এসে বছরখানেক পর ভাইদের সহায়তায় ঢাকা থেকে ছবির ওপর গমেরকাঠী দিয়ে নকশা ও আর্ট করার কাজপাই। এছাড়াও মাটি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র নির্মানের কাজ করি। তবে এ কাজগুলো শুধু অর্ডার পাওয়ার পরেই করা হয়। এসব কাজে প্রকারভেদে প্রতিটিতে দেড় থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরী পাওয়া যায়। তার একাজে ইতোমধ্যে ওইগ্রামের সাতজন অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের নারীকে তিনি জড়িয়ে নিয়েছেন। যারা আজ নিজেরাই কাজ শিখে ও কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন।

বরিশালে প্রতিমা তৈরীর কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, নগরীর কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করা তার বোন লক্ষী রানী ও বোন জামাতা সঞ্জয় সিকদারের বাড়িতে বেশ কিছুদিনপূূর্বে তিনি বেড়াতে আসেন। এখানে এসে বোনের ছোট সন্তানদের জন্য তিনি কিছু মাটির খেলনা তৈরী করেন।

বাড়ির মালিক এ্যাডভোকেট অনীল চন্দ্র তার এ শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে তিনি তাকে (সুইটি) নিয়ে যান মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে। তাদের কারণে সহজেই তিনি কাউনিয়া লোকনাথ মন্দিরের দুর্গা পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়ে যান।

সুইটি জানান, বর্তমানে প্রতিমা তৈরীর কাজে ব্যয় বেড়েছে বহুগুন। তিনি পারিশ্রমিক নিয়ে কোন হতাশা প্রকাশ না করে শুধু বলেন, একজন নারী হয়ে আমি দুর্গা পূজার প্রতিমা তৈরির কাজে নিজেকে জড়াতে পেরে আজ গর্বিত মনে করছি।

কাউনিয়া লোকনাথ মন্দিরের দুর্গা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক বিদ্যুত দাস বলেন, নারী শিল্পী সুইটির সুনিপুন হাতের ছোঁয়ায় নির্মিত প্রতিমা দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়েছি। তার এ কাজে আরও সাতজন নারী সহযোগীতা করছেন।

মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে বলেন, বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজে এবারই সর্বপ্রথম নারী মৃৎ শিল্পী হিসেবে সুইটি দাস কাজ করছেন।