মেইন ম্যেনু

বরিশালে বখাটেদের দৌরাত্ম

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর তৎপরতার মধ্যেও নগরীসহ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় গত কয়েকদিন থেকে বখাটেদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর এজন্য মাদক সেবনকেই দায়ী করেছেন সচেতন মহল।

সূত্রমতে, বখাটে শাহীন হাওলাদারের অব্যাহত যৌণ হয়রানি থেকে রেহাই পেতে নবম শ্রেনীর ছাত্রী আনিহা সুলতানা মীমকে গত মার্চ মাসে জেলার বাবুগঞ্জের খানপুরা স্কুল থেকে নগরীর জগদিশ স্বারস্বত স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি করানো হয়। গত শনিবার বিকেলে বরিশালের বাসা থেকে নিজবাড়ি খানপুরা যাওয়ার পথে বখাটে শাহিন প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর বসে মীমের হাত ধরে টানাহেচরা শুরু করে।

এ সময় মীমের ডাকচিৎকারে তার বাবা সুলতান আহমেদ এগিয়ে আসলে বখাটে শাহীন ও তার সহযোগীরা তাকে (সুলতান) মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে মীমের পিতা বাদি হয়ে বিমান বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওইদিন দুপুরে অভিযান চালিয়ে বখাটে শাহিনকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে কলেজ ছাত্রীকে অপহরনের চেষ্ঠাকালে স্থানীয়রা এক বখাটেকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। সোমবার দুপুরে আটককৃতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার দত্তেরাবাদ গ্রামের। গৌরনদীর মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী ও দত্তেরাবাদ গ্রামের মনিরুল ইসলামের কন্যা নাসরিন আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে অপহরনের চেষ্ঠা করে পাশ্ববর্তী ছয়গ্রাম এলাকার মৃত হোসেন আকনের পুত্র রবিউল আকন।

এছাড়া মুলাদীর হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজের এক ছাত্রীকে সোমবার সকালে বড়লক্ষ্মীপুর এলাকায় বসে যৌণ হয়রানীর সময় স্থানীয়রা রাসেল পালোয়ান নামের এক বখাটেকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে। পুলিশ ওইদিন বিকেলে বখাটে রাসেলকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসউদের আদালতে সোর্পদ করেন। আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট বখাটে রাসেলকে ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। রাসেল সফিপুর ইউনিয়নের বড়লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল আলীম পালোয়ানের পুত্র।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে নগরীর সদর রোডের সিটি কলেজের মুল প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের যৌণ হয়রানী করে আসছিলো চিহ্নিত বখাটেরা। গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ছাত্রীদের উত্যক্তের প্রতিবাদ করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সজিব কুমার দেবনাথ ও অফিস সহকারি এস.এম সাইদুর রহমান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটেরা তাদের লাঞ্ছিত করেন।

একপর্যায়ে বখাটে ইয়াসিন হোসেন জুয়েল, বালা, রুবেলসহ তাদের ৫/৬জন সহযোগীরা কলেজের অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুবেল নামের এক বখাটেকে আটক করলেও অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অপরদিকে স্কুল ছাত্রীকে যৌণ হয়রানীর প্রতিবাদ করায় গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিএনপি ক্যাডার বখাটে ও তার সহযোগীরা সংখ্যালঘুপাড়ায় হামলা চালিয়ে এক গর্ভবতী নারীসহ কমপক্ষে ১৫ জনকে আহত করেছে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামের।

এ ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযুক্ত বখাটেদের গ্রেফতারের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া সত্বেও তিনি (ওসি) রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। সাহেবেরহাট গ্রামের মন্টু হালদারের কন্যা ও বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রীকে দীর্ঘদিন থেকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে যৌণ হয়রানী করে পশ্চিম বারপাইকা গ্রামের আলমগীর শাহর বখাটে পুত্র ও বিএনপি ক্যাডার নিশাত শাহ । বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্কুল ছাত্রীর পথরোধ করে বখাটে নিশাত ও তার সহযোগী রহিম শাহ ও মশিউর মোল্লা কু-প্রস্তাব দেয়।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বারপাইকা স্কুল সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা গোবিন্দ সরকার বখাটেদের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার দুপুরে ওইতিন বখাটেসহ তাদের ১৫/১৬ জন সহযোগীরা গোবিন্দর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় গোবিন্দ, প্রতিবেশী তপন বল্লভ, তার গর্ভবর্তী স্ত্রী কনিকা বল্লভসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। গুরুত্বর আহত কনিকা বল্লভকে শেবাচিম ও অন্যান্যদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. আকতারুজ্জামান বলেন, বখাটেদের সাথে কোন আপোষ নয়; বরং তাদের কঠোর হস্তেদমন করতে জেলার দশটি থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।