মেইন ম্যেনু

বরিশাল নগরবাসী আবারও পানিবন্দী

আবারও পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। বৈরি আবহাওয়ার কারণে বুধবার রাত থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য নগরবাসী আবারও পর্যাপ্ত নালা (ড্রেন) না থাকা, নালা পরিচ্ছন্ন না করা এবং খাল খনন বা সংস্কার না করাকে দায়ী করেছেন। সাথে নতুন উপদ্রব হিসেবে যুক্ত হয়েছে বর্ষার সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি।

সূত্রমতে, বুধবার থেকে পুনরায় বৃষ্টি শুরু হলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বুধবার রাত থেকে বেশ কয়েকটি সড়কে হাঁটুসমান পানির মধ্যে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। বরিশাল নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, নগরের অবশিষ্ট খাল খনন করে খালের প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য একাধিকবার সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করা সত্বেও খাল খনন বা সংস্কার হয়নি। ফলে বর্ষার পানি দ্রুত নিস্কাশন হতে না পেরে একটু বৃষ্টিতেই পুরো নগরীতে হাঁটু সমান পানি জমে যায়।

বরিশাল আবহাওয়া অধিপ্তরের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১টা পর্যন্ত ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত মাসের ২৪ জুন বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ২১৮ মিলিমিটার। ওই সময়ের চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তারপরেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে গোটা নগরীতে। নগরীর গোরস্তান রোড এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, গত দশদিন পূর্বে ভাড়ি বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার পরেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নালা কিংবা ড্রেন পরিস্কার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

ফলে বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাদের এলাকা থেকে এখন হাঁটু সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অপরদিকে বর্ষার শুরুতেই নগরীর রাজাবাহাদুর সড়ক, জিলা স্কুল মোড়, সদর রোড, ফকির বাড়ি রোড, জেলখানার মোড়, রূপাতলী, মেডিকেল কলেজ এলাকা, বান্দ রোড, হাসপাতাল রোডসহ অনেক সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি অব্যাহত থাকায় নগরবাসীদের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোতালেব হাওলাদার বলেন, গত বছর বর্ষা মৌসুমের আগে নালা পরিস্কার করা হয়েছিল।

একবছরের মধ্যে নালা আটকে যাবে তা বোঝা যায়নি। নালার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য নগরের সব ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষার মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি প্রসঙ্গে প্রকৌশলী বলেন, বর্ষায় নয়; আগেই কাজ শুরু করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও টেলিফোন বিভাগ। বর্ষা শুরু হওয়া এবং ঈদকে সামনে রেখে সদর রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কের মাটি খোঁড়ার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, পানি অপসারণে নগরীতে কিছু কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত বাড়ি নির্মাণ, নালা দখল করার কারণেও জলাবদ্ধতা হচ্ছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঈদের পর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।