মেইন ম্যেনু

বরিশাল নগরীর টিবি পুকুরের ভাঙ্গণে বেহাল সড়ক

বরিশাল প্রতিনিধি : নগরীর ৪নং ওয়ার্ড আমানতগঞ্জ এলাকার প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী টিবি পুকুরটি এখন ওই এলাকার মানুষের গলার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গণের ফলে পুকুরের চারিপার্শের চারটি ঘাটলা, একটি সড়ক ও দুটি বাউন্ডারী দেয়াল নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের গোসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য একমাত্র ভরসা ছিলো এ পুকুরটি। পুকুরের পার বিনোদনের স্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হতো। পুকুরের পাশের মাঠটি ছিল খেলাধুলার একমাত্র স্থান। সম্প্রতি সময়ে টিবি পুকুরের চারিপাশে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরায় চারটি ঘাটলাই বিলিন হয়ে গেছে। তেমনি মাঠের সেই উদ্যমও আজ বিলিন প্রায়। এ কারনেই মানুষের কোন উপকারেই আসছেনা পুকুরটি। বরং পুকুরটি এখন মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সূত্রমতে, পুকুরটির পশ্চিম পারে বীনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পার্শে টাউন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর পাড়ে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র টিবি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পূর্ব পাড়ে সিভিল সার্জনের মেডিসিনের গোডাউন ও রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল অবস্থিত। এ সব প্রাচীণ জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির সম্মুখিন হয়েছে একমাত্র টিবি পুকুরের ভাঙ্গনের কারনে। ভাঙ্গনের মুখে পুকুরটির পশ্চিম পাড়ের বাউন্ডারি দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। ফলে বীনাপানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভীষণ চিন্তিত অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

সূত্রে আরও জানা গেছে, পুকুরের উত্তর পাশের রাস্তাটি আমানতগঞ্জ ও ভাটিখানা এলাকায় যাতায়াতের জন্য এবং টিবি হাসপাতালের জন্য ব্যবহার হতো কিন্তু পুকুরের উত্তর-পশ্চিম পাড়ের রাস্তাটি ভেঙ্গে পড়ায় এখন যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে জনসাধারণের চলাচলও দূরহ হয়ে উঠেছে। রাস্তাটি পুকুরে ভেঙ্গে পড়ায় টিবি হাসপাতালের রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিসহ এ্যাম্বুলেন্স, রিক্সা ও ভ্যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, পুকুরের পূর্বপাড়ের সিভিল সার্জনের মেডিসিনের গোডাউন ও রেড ক্রিসেন্টের হাসপাতালের নতুন চারতলা বিল্ডিংয়ের বাউন্ডারি দেয়াল ও গোডাউনের দেয়ালও ভেঙ্গে পরেছে পুকুরে। এছাড়া পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের রাস্তায় কয়েক বছর আগে নির্মিত বাঁধেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পুকুরের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অতীতে আরও কয়েকবার বাঁশ, গাছ আর ড্রাম দিয়ে বাঁধ দেয়া হলেও তা বেশিদিন টিকেনি। ফলে এলাকাবাসী পুকুরের ভাঙ্গণ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পাশের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ডাক্তারদের সাথে আলাপকালে তারা এ ব্যাপারে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর দাবি করেন। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিকারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল হাসান আনিস বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ পুকুরের ভাঙ্গণ থেকে রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে সিটি কপোরেশনের মেয়রের কাছে একটি আবেদন করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে মেয়র পুকুর পাড়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি (মেয়র) এলাকাবাসির দাবি প্রেক্ষিতে রাক্ষুসী পুকুর পাড়ে বাঁধ নির্মাণসহ একই সাথে বাঁধের ওপরে জনগনের হাটার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। যেকারণে টিবি পুকুরের জন্য ছোট একটি ঘাটলার জন্য পূর্বের ওয়ার্কঅর্ডার মেয়রের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আহসান হাবীব কামাল বলেন, টিবি পুকুরের ভাঙ্গণ ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ওই পুকুরের চারিপার্শ্বে বিবির পুকুরের ন্যায় মনোরম পরিবেশ করার জন্য করপোশনের পক্ষ থেকে প্লান করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে।