মেইন ম্যেনু

১৬৬ বছরে ৬০ হাজার লাশ দাফন

বরিশাল মুসলিম গোরস্তানে লাশ দাফনে জমি সংকট

কল্যাণ কুমার চন্দ, জেলা প্রতিনিধি, বরিশাল : ১৬৬ বছরের পুরনো নগরীর মুসলিম গোরস্তানে লাশ দাফনে জমির সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৮ একর জমির উপর প্রায় ৬০ হাজার লাশ দাফন করা হয়েছে। সময়ের বির্বতনে ২০ টাকা মূল্যের সাড়ে তিন হাত কবরের জায়গার দাম এখন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ টাকায় অনেকেই কবরের জমি ক্রয় করে লাশ দাফনের ক্ষমতা রাখেন না। আবার অনেকে টাকা হলেও পচ্ছন্দের জমি পাচ্ছেন না। গোরস্তানের আনাচে কানাচে অধিকমূল্যে জমি ক্রয়ের পর এখন লাশ দাফন করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, ৪৫ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল নগরীতে এখন ৬ লাখেরও অধিক মানুষের বসবাস। এরমধ্যে খ্রীস্টান ধর্মের রয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার। তাদের জন্য কবরস্তান রয়েছে একটি, হিন্দু সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। তাদের জন্য রয়েছে একটি শশ্মানঘাট। বাকি ৫ লাখ মুসলমানদের জন্য মৃত্যুর পর দাফনের একমাত্র ভরসা মুসলিম গোরস্তান। নগরীর গোরস্তান রোড এলাকায় ১৮৫০ সালে ১২ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠে মুসলিম কমপ্লে¬ক্স। সেখানে রয়েছে মুসলিম মাদ্রাসা, মুসলিম গোরস্তান মসজিদ, আঞ্জুমান অফিস ও মুসলিম কবরস্থান। ওই সময় শুধুমাত্র ৩ একর জমির ওপর সীমাবদ্ধ ছিল মুসলিম কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর। বাকি জমিতে মসজিদ, মাদ্রাসা আর পুকুর। কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্ব ছিল মিউনিসিপালটির। তখন সেখানে লাশ দাফন করতে কোন টাকা লাগতো না। ১৮৯৩ সালে আঞ্জুমান-ই-হেমায়েত-ই ইসলামের নিকট কবরস্থানটি হস্তান্তর করে মিউনিসিপালিটি। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত টাকা ছাড়াই সেখানে লাশ দাফন করা হতো।

১৯৬৫ সালে একটি কবরের জন্য নির্দিষ্ট সাড়ে তিন হাত জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২০ টাকা। শর্ত মোতাবেক ওই টাকার বিনিময়ে যারা লাশ দাফন করতো শুধুমাত্র তাদের কবরের ওপর অন্যকোন কবর দেয়া হতো না। যারা টাকা ছাড়া লাশ দাফন করতেন তাদের কবর আর সংরক্ষন করা হতো না। এভাবেই সেখানে কবরের ওপর কবর নির্মান হয়েছে অসংখ্য। ১৯৬৬ সালে ৫ টাকা বাড়িয়ে কবরের জমির মূল্য নির্ধারন করা হয় ২৫ টাকা। ৫১ বছরের ব্যবধানে সেই জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। তাও আবার ২০ টাকার জমির মতো ভাল পচ্ছন্দের জমি মিলছে না।

আঞ্জুমান-ই-হেমায়েত ইসলাম সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে এ মুসলিম গোরস্থানে সাড়ে ৩’শ লাশ দাফন করা হয়ে থাকে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ধীরে ধীরে মুসলিম গোরস্থানের পরিধি বৃদ্ধি করে ৮ একর এলাকা জুড়ে সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। ১৬৬ বছরের ব্যবধানে সেখানে প্রায় ৬০ হাজার লাশ দাফন করা হয়েছে। এখন আর সেখানে লাশ দাফনের জন্য জমি নেই। আশে পাশে বিশাল অট্টালিকা আর বিলাশ বহুল বাড়ী ঘর নির্মান করায় গোরস্থান সম্প্রসারনের আর কোন উপায় নেই। আঞ্জুমান-ই-হেমায়েত-ই ইসলামের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের পর আর এ গোরস্থানে লাশ দাফনের জন্য কোন জায়গা অবশিষ্ট থাকবে না।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থানের জায়গা সংকট নিরসনে নগরীর আরও চারটি স্থানে জমি দেখা হচ্ছে। রূপাতলী এলাকায় ৬ একরের একটি জমি নিয়ে দরদাম চলছে। খুব শীঘ্রই আরও কবরস্থান নির্মানের কাজ শুরু করা হবে।