মেইন ম্যেনু

‘বর্ণবাদ ধ্বংস করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন’

অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী নির্যাতনের ওপর সাংবাদিক স্টান গ্রান্টের দেয়া বক্তব্যটি সম্প্রতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত তিন দিনে অনলাইনে তা ১০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে সিএনএন জানিয়েছে।

সাংবাদিক স্টান গ্রান্ট গতবছর আদিবাসীদের ওপর ওই বক্তব্য রাখলেও দিন কয়েক আগে অস্ট্রেলিয়া দিবসের প্রাক্কালে সেটি অনলাইনে পোস্ট করা হয়। ২৬ জানুয়ারি ব্রিটিশদের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার দিনটি সেখানে জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। জাতীয় পতাকা উত্তেলন করাসহ নানাভাবে ঐতিহ্যবাহী দিনটিকে উদযাপন করা হয়ে থাকে। যদিও মুষ্ঠিমেয় কিছু লোকের দৃষ্টিতে এটি সে দেশের আদিবাসীদের প্রতি অবিচারের দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। কেননা শ্বেতাঙ্গরা এদেশে পা রাখার পরেই যে শুরু হয়েছিল আদিবাসী উচ্ছেদ ফর্মুলা। তারা আদিবাসীদের নির্বিচারে হত্যা করেছিল, জমিজমা কেড়ে নিয়েছিল। তাদের শিশুদের পর্যন্ত অপহরণ করা হয়েছিল। ১৭৮৮ সালের এই দিনে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পোর্ট জ্যাকসনে ব্রিটিশ অভিবাসীরা বসতি গড়ার পর থেকেই আদিবাসী নিধন শুরু হয়।

সাংবাদিক স্টান গ্রান্ট তার বক্তৃতায় এ সকল আদিবাসী নীপিড়নের কাহিনী তুলে ধরেছিলেন। ‘রেসিজম ইজ ডেস্ট্রিইং দ্য অস্ট্রেলিয়ান ড্রিম’ বিতর্কে অংশ নেয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় ‘অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন’ বলে থাকি। অনেকটা প্রবাদের মতই হয়ে গেছে এই কথাগুলো।’ কিন্তু তিনি মনে করেন, বর্ণবাদ এই অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের আদিবাসী ‘উরাডজুরি’ গোত্রের এই সাংবাদিক অতীত নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বলেন,‘এই দেশে আমরা আদিবাসীরা অল্প বয়সে মারা যাই। অস্ট্রেলিয়ানদের তুলনায় আমাদের গড় আয়ু অনেক কম। আমরা গড়ে তাদের চেয়ে ১০ বছর কম বাঁচি। কাজেই আমরা এখনো স্বাধীন হতে পারিনি।’

পরিসংখ্যানও তার পক্ষে

সাংবাদিক স্টান গ্রান্ট কিন্তু মনগড়া কথা বলেননি। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মধ্যবয়সের পর আদিবাসী লোকজনের জীবিত থাকার সংখ্যা খুবই কম। পরিসংখ্যান বলছে, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা গড়ে মাত্র ৪৯.৯ বছর বাঁচে। আদিবাসীদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার অ-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গড় আয়ু অনেক বেশি। তাদের পুরুষরা ৭৮.৫ বছর এবং নারীরা ৮৪.৮ বছর বেশি বাঁচে। আদিবাসীদের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হারও খুব বেশি। এমনকি আত্মহত্যা করার প্রবণতাও তাদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষের তুলনায় আদিবাসীরা দুই থেকে পাঁচ বার বেশি সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে বলে ‘সোস্যাল জাস্টিস এন্ড নেটিভ টাইটেল রিপোর্ট-২০১৫’তে উল্লেখ করা হয়েছে। এক বছর পর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সাংবাদিক স্টান গ্রান্টের এ বক্তব্য সাড়া জাগিয়েছে। গ্রন্থাগারিক মাইক কার্লটন বলেছেন‘ তার এ বিবৃতি একদিন মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যের মতই মর্যাদা পাবে।’

তার এই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করারও দাবি জানিয়েছেন অনেক ফেসবুক ইউজার। অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে যেখানে এখনো বর্ণবাদ টিকে আছে সেখানে তার এ ভাষণ অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত বলেও অনেকে মত দিয়েছেন।



« (পূর্বের সংবাদ)