মেইন ম্যেনু

বলিউডে যে সুপার হিট তারকারা এখন বেকার

তরকারা কখনো সুপার হিট আবার কখনও ফ্লপ। চলচ্চিত্রাঙ্গনে এটা নিয়মিত ঘটনাই বটে। এ কারণে বলা হয় কখন কে সুপারস্টার আর কখন কার বাজে সময় সেটা ভাগ্যদেবীই জানেন। কালে কালে বহু স্টারকেই যেতে হয়েছে খারাপ সময়ের ভিতর দিয়ে। তবে যারা খুব ভাগ্যবান তার ঠিক ফিরে এসেছেন স্বমহিমায়। আবার এমন ঘটনাও বিরল নয় যে চমক দেখিয়ে সফলতার সোনার হরিণ বগলদাবা করলেও তাকে আবার হারিয়ে ফেলেছেন অকালে।

যদিও তারকারা নিজেরা কখনও বিশ্বাস করেন না যে শনির দশায় পড়তে হবে তাদের। গেল বছরও যারা ছিলেন লাইমলাইটে আজ তাদের অনেকেরই ভাগ্য ঝুলে গেছে। এক সময় যাদের কোনো সিডিউল পাওয়া যেত না তাদের হাতে এখন কোনো কাজই নেই, এমন চার সুপারস্টারের গল্প বলছি আজ।

বিদ্যা বালান
ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশটির জাতীয় খেতাব পদ্মশ্রী বিজয়ি অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। ডার্টি পিকচার (২০১১) ও কাহানি (২০১২) মতো বহুল আলোচিত ও নন্দিত সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় উঠেন তিনি। তবে এর পর হঠাৎ করেই ছন্দ পতন হয় তার। অনেক নক্ষত্রের পতনের মতোই তার ক্যারিয়ারের গ্রাফ নিচের দিকে নেমে যায়। তিনি নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টাও করেন। একে একে কাজ করেন ঘানচক্কর (২০১৩), সাদি কা সাইড ইফেক্ট (২০১৪), বব্বি জাসুস (২০১৪)-এ।

এ বছর সর্বশেষ মুক্তি পায় তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি হামারি আধুরি কাহিনি। সবগুলো ছবিই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পরে। এর পরও গুজব রটে ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরাদের অন্যতম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বায়োপিকে নাম ভূমিকায় দেখা মিলবে বিদ্যার। তবে অফিসিয়ালি এর কোনো সত্যতা মেলেনি আজও। সব মিলিয়ে তামিল, বাংলা, মালয়ালম ভাষার সিনেমায় অভিনয় করা এ শিল্পীর হাত এখন একে বারেই খালি। কোনো কাজ নেই তার ঝুলিতে। এক কথায় বেকারই বলা চলা তাকে।

ইমরান খান
বলিউডে অভিষেকের আগে লোকে তাকে চিনত আমির খানের ভাগ্নে হিসেবে। অবশ্য প্রথম সিনেমা ‘জানে তু… ইয়া জানে’ (২০০৮) হিট হওয়ায় তার নামের পাশে যোগ হয় তারকা খেতাবটি। সকলেই তাকে বলিউডের একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে স্বীকার করে নেন। সেই ছন্দে পতন হয় কিডন্যাপ (২০০৮) এবং লাক (২০০৯)-এর বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায়। কেরিয়ারের শুরুতে একজন ‘ফিল্মি বিষ্ময়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও তিনি কেরিয়ারে এখনও কেন সাফল্য পাচ্ছেন না সেটাই একটা বিষ্ময় হয়ে রয়েছে।

বিশেষ করে তার মামুজান আমির খান অভিনীত ও প্রযোজিত ‘দিল্লি বেলি’(২০১১)সহ বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেও ব্যবসায়িকভাবে সফল ছবিতে ঝুলি ভরতে ব্যর্থ তিনি। তার কেরিয়ারে ফ্লপ ছবির তালিকায় আরো রয়েছে ‘মাতুরু কি বিজলি কা মনডোলা’, ‘গোরি তেরি পেয়ার মেনে’ ছবিগুলো। এ বছর কঙ্গনা রনৌতের সঙ্গে তার ‘খাট্টিবাট্টি’ সিনেমা নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল অনেকের। তবে ছবিটির ব্যর্থতা ইমরানকে আরো পিছিয়ে দিয়েছে বলেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এখন এ শিল্পীর অবস্থায় এতটাই খারাপ যে বর্তমানে হাতে কোনো ছবিই নেই তার। তবে এই খারাপ দিনে ইমরানের নীরবতার একটা মানে কিন্তু আপনি করতেই পারেন। আর সেটি হচ্ছে নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে ফিরতে পারেন জনপ্রিয়দের রেসে।

আদিত্য রাও কাপুর
কাপুর পরিবারের তরুণ এই সদস্যের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল ‘লন্ডন ড্রিমস’ ছবিটি দিয়ে ২০০৯ সালে। এর চার বছর পর ফিরে আবারও তিনি চমকে দিলেন ‘আশিকী টু’ সিনেমা দিয়ে। এই সিনেমাটি তার জীবনে বয়ে আনে সৌভাগ্যের বারতা। শুধু আদিত্যই নন ছবিটিতে তার সহশিল্পী শ্রদ্ধা কাপুরের কেরিয়ারকেও বদলে দেয়।

আদিত্য-শ্রদ্ধা জুটির ছবিটি একশ কোটির ক্লাবে ঢুকে যায়। এ অভিনেতাকে সব শেষ দেখা যায় ‘দাওয়াত-ই-ইস্ক’ সিনেমায় ২০১৪ সালে। এর পর আবার লম্বা বিরতি নেন। তবে সম্প্রতি তিনি কাজ করছেন অভিষেক কাপুরের ‘ফিত্তর’ সিনেমায়। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন বরুন দেওয়ান এবং সুশান্ত সিং রাজপুত। এরা দুজনেই আদিত্যের তুলনায় কেরিয়ারে বেশ এগিয়ে। সেই তুলনায় আদিত্যের ঝুলি এক দমই ফাঁকা।

পরিনীতি চোপড়া
বলিউডের এই তরুণ তুর্কি নিজের দক্ষতা দিয়ে স্বামর্থের প্রমাণ দিয়েছেন। তবে প্রতিযোগী হিসেবে বলিউডে টিকে থাকতে গেলে শুধু যে প্রতিভা আর যোগ্যতা থাকলেই হয় না। এর পাশপাশি প্রয়োজন ভাগ্যের জোড়ও। ছোট্ট কেরিয়ারে তিনি প্রশংসার পাশাপাশি দেখেছেন ব্যর্থতার চাপও। এরই মধ্যে তার শুদ্ধ দেশি ‘রোমান্স’ (২০১৩), ২০১৪ সালের ‘হাসি তো ফাঁসি’ এবং ‘দাওয়াত-ই-ইস্ক’ সিনেমা দুটি ছিল ব্যবসায়িক দিক থেকে ব্যর্থ।

তবে এর পরই তার ‘কিল দিল’ (২০১৪) বেশ ভালো ব্যবসা করে। এর পর অবশ্য বেশ কিছু দিন তিনি ছিলেন ক্যামেরা থেকে দূরে। তাই বলিউডের ফোকাসটাও তাকে হারিয়ে ফেলে। এর পর থেকেই তার হাতে কোনো কাজ নেই। যার ধারাবাহিকতায় এ বছরটি পরিনীতির ছবি শূন্য ছিলেন। এবং ধারণা করা হচ্ছে সামনের বছরটাও মন্দাই যাবে হঠাৎ ঝলক দেখানো এ অভিনেত্রী। তবে এ সব নিয়ে তার যে কোনো মাথা ব্যথা নেই। এটা পরিনীতির মুটিয়ে যাওয়া দেখলেই বোঝা যায়।