মেইন ম্যেনু

বসুন্ধরার আগুনে পুড়েছে তিন শতাধিক পরিবারের ‘ঈদ স্বপ্ন’

‘ঈদকে সামনে রেখেন গত দুই দিন ধরে দোকানে জুতা সাজানোর কাজে সবাই ব্যস্ত ছিলাম। ভালো ব্যবসা হলে বোনাসের বাইরেও মালিকের কাছে অতিরিক্ত বখশিস আবদার করেছিলাম। তিনিও সানন্দে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু রোববারের আগুনে দোকানের জুতা পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের ঈদের স্বপ্নও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন বোনাস বখশিস তো দূরের কথা, মালিকের কাছে বেতন চাইতেও খারাপ লাগবো।’

রোববার রাতে বসুন্ধরা শপিং মলের বাইরে দাঁড়িয়ে ৬ষ্ঠ তলার সি ব্লকের জুতার দোকানের কয়েকজন কর্মচারী এভাবেই তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার বর্ণনা করছিলেন। যে মার্কেটে তাদের প্রতিদিন সিংহভাগ সময় কাটতো অগ্নিকাণ্ডের ফলে সেই মার্কেটে প্রবেশেও তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাই বসুন্ধরার আশেপাশে তিন চার জন করে দলবদ্ধ হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলেন তারা।

এসময় তারা আরো বলেন, ‘জানেন তো, জুতার ব্যবসা সারা বছর হয় না। রোজা ও কোরবানি- এই দুই ঈদেই শুধুমাত্র ভালো ব্যবসা হয়। তাই এই দুই ঈদের অপেক্ষায় থাকে সবাই। ফলে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মাত্র চার পাঁচ দিন আগে মালিক চীন থেকে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের নতুন নতুন ডিজাইনের ওই জুতার চালান আনিয়েছিলেন।`

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বসুন্ধরার সি ব্লকের যে অংশটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সে অংশে শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে ৩ জন করে কর্মচারী রয়েছেন। বেশিরভাগ কর্মচারীর পরিবার তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

এমআর এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী মো. টিপু গতরাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘কবে যে মার্কেট খুঁলবো, আর নতুন করে মাল তুলে ঈদে কতটুকু ব্যবসা হবে, বেতন বোনাস কতটুকু পাবো তা ভেবে মাথা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান সোমবার বিকেলে বলেন, বসুন্ধরার অগ্নিকাণ্ডে ৭০ থেকে ৮০টি জুতার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিটের দেড় শতাধিক ফায়ার ফাইটার নিরলস পরিশ্রম করে আগুন নিয়ন্ত্রনে রেখেছে। আগুন যেন ওপরের দিকে উঠতে না পারে সে জন্য ৭তলায় প্রচুর পানি ঢালা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে একজন উপ-পরিচালককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

আলী আহমেদ খান বলেন, বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ অগ্নি নির্বাপনে সুব্যবস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু জুতার দোকানে আগুন লাগার কারণে অতিরিক্ত ধোঁয়া থাকায় নিজস্ব অগ্নিনির্বাপনকারীরা প্রথমে চেষ্টা করলেও পরে পিছিয়ে পড়েন।

ততক্ষণে আগুণ ও ধোঁয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে বলে তিনি জানান।