মেইন ম্যেনু

বাঁকখালী নদীতে বালি উত্তোলনের মহোৎসব, হুমকিতে আশেপাশের ঘরবাড়ী

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজারের প্রমত্তা বাঁকখালী নদীটি এখন মানুষের মাঝে দিনদিন অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। শহরের কস্তুরা ঘাট এলাকা দিয়ে বাঁকখালী নদী হতে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলণের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশেপাশের বহু ঘরবাড়ী ও স্থাপনা। প্রতিদিন অন্তত ডজনাধিক বড় ডাম্পার যোগে উত্তোলিত বালি ও মাটি সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে বাঁকখালী তীরবর্তী কস্তুরাঘাট ও ৬নং ঘাট হতে নুনিয়াছড়া পর্যন্ত বিশাল এলাকার শতশত ঘরবাড়ি ও মুল্যবান স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসি ও বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে শহরের কস্তুরাঘাট ও ৬নং ঘাট সংলগ্ন পয়েন্টে বালি উত্তোলণের জন্য চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেন। সারাদিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে দেদারছে বালি উত্তোলণ করা হচ্ছে। উত্তোলিত এসব বালি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরই বড় বড় ডাম্পার যোগে প্রতিগাড়ি বালি ৫‘শ টাকা হারে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত অন্তত ৫০ গাড়ি বালি পাচার করে যাচ্ছে একটি চক্র। এমনকি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলণের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও বিআইডব্লিউটিএ এর অনুমতি নেয়া হয়নি বলে সুত্রটি জানিয়েছেন।

ড্রেজার মেশিন দিয়ে নির্বিচারে নদীর বালি উত্তোলণ কাজে নিয়োজিত বেশ কিছু শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা শুধু মাত্র শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। অনুমতি আছে কি নেই এবং কোন প্রতিষ্ঠান এধরনের কাজ চালাচ্ছে তাও জানাতে পারেনি শ্রমিকরা।

নদীকুলবর্তী বেশ কিছু অধিবাসিরা জানান, প্রতি বছর বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে অনেক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এমনকি ফিশারীঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভবনটি ইতোমধ্যে হেলে পড়ায় তা ভেঙ্গে ফেলা হয় অর্ধেকেরও বেশি অংশ। এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরো অর্ধশত বসতঘর, বরফ মিলসহ মুল্যবান বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়া বালি ভর্তি বড় বড় ডাম্পার চলাচল করায় গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দর সড়কটিও স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এর পরও চলছে জনস্বার্থ বিরোধী কাজ। বিনা অনুমতিতে বালি উত্তোরণ করে তা বিক্রির সুযোগ পাওয়ায় আরো কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসানোর প্রস্তুতি নিয়েছে বেশ কিছু চক্র।
অধিবাসিদের মতে, জেলা প্রশাসন ও অভ্যন্তরিন নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় (বিআইডব্লিউটিএ) হতে যৌথ সার্ভের মাধ্যমে কোন কোন স্থান থেকে বালি ও মাটি উত্তোলণ করা যাবে তা সু-নিদিৃষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা হোক। এতে করে একটি নদী ড্রেজিং হওয়ার পাশাপাশি অধিবাসিরা ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

বাঁকখালী নদী সার্ভে করে বালি উত্তোলণ করার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি। তা না হলে অন্তত কয়েক’শ ঘরবাড়ি ও স্থাপনা বাঁকখালী নদীর গর্বে বিরীন হওয়ার আশংকাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না এলাকার মানুষ।