মেইন ম্যেনু

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে হবে হাজারো লাশের উপর

বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চাইলে সরকারকে হাজার হাজার গ্রামবাসীর লাশের উপর দিয়েই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রোববার বিকেল এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্ষতি হয় না। উদ্ভট কথা বলে অযথা কিছু মানুষের জীবন নেয়া হলো। এরপর বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী সমাবেশে ত্রিমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে চার গ্রামবাসী নিহতের পর উত্তপ্ত পরিস্থির মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথম স্পষ্ট বক্তব্য এলো।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীদের নেতা লিয়াকত আলী বলেন, ‘যদি জ্বালানি উপদেষ্টা বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে থাকেন তাহলে আমরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করব। সরকার বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে এটি ঘোষণা দিয়ে থাকলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে হবে। আমাদের হাজার হাজার মানুষকে মেরেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে হবে।’

গত শুক্রবার আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন লিয়াকত আলী। তবে সময় শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ কবির লিটন ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি কামরুল হাসানের সাথে আলোচনার পর কাপনের কাপড় পড়ে উপজেলা কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছিল ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটি’।

তাহলে নতুন করে আন্দোলন কখন শুরু করা হবে জানতেই চাইলে লিয়াকত আলী বলেন, ‘পুলিশের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করায় হঠাৎ করেই আন্দোলন শুরু করা যাবেনা। আমরা আবার জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলনে নামব।’

এরআগে রোববার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘অক্সফোর্ড থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। অথচ এখানে উদ্ভট কথা বলে অযথা কিছু মানুষের জীবন পর্যন্ত নিয়ে নেয়া হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করতে গেলেই এক শ্রেণির লোক পরিবেশ রক্ষার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে দেবে না। প্রথমবার যখন আমি ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় ছিলাম, তখনই দিনাজপুরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। সেখানে দুটো বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, তৃতীয়টার কাজ চলছে। এলাকার কোনো ক্ষতি হয়নি বরং জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান-পান হচ্ছে, গাছপালা হচ্ছে- সব হচ্ছে। মানুষ বসবাস করছে।’

এ প্রসঙ্গে লিয়াকত আলী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী না বুঝেই এই কথা বলেছেন। উনি যদি বুঝে বলতেন তাহলে জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলতেন বলে আমাদের মনে হয়না।’

উল্লেখ্য, এস আলম গ্রুপের অর্থায়নে বাঁশখালীল গ-ামারা প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে গত সোমবার ত্রিমুখি সংঘর্ষে কমপক্ষে চার জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেকে। এরপর থেকে প্রতিবাদি হয়েছে উঠেছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী এলাকাবাসী। যদিও এ ঘটনার পর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, এস আলম চাইলে প্রকল্পটি অন্যখানেও সরিয় নিতে সরকার সহযোগিতা করবে। আর অন্যদিকে গতকাল বোয়ালখালীতে এসে এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনের নামে কেউ পানি ঘোলা করে উদ্দেশ পূরণের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।