মেইন ম্যেনু

বাঁশের সাঁকোই ভরসা : তবে পারাপারের টাকা জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে গরিব মানুষেরা

নদীর উভয় পাড়ে ৩০টি গ্রাম রয়েছে। দু’পারের ৪০ হাজার মানুষের পারাপারের ভরসা নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। নদী পারাপার হতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা দিতে হয়। টাকা নেয়ার ফলে নদীর ওপারের মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া অনেক সময় টাকা না থাকলে ইজারাদার খারাপ ব্যবহার করেন তাদের সঙ্গে। সেখানে একটি পাকা ব্রিজ থাকলে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না বলে দাবি কারেন এলাকাবাসী।

নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলার সীমান্তে চামারী ইউনিয়নের বিলদহর বাজার পয়েন্টে আত্রাই নদীতে পারাপারের জন্য চলনবিলবাসীর একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ৩০টি গ্রামের অবহেলিত মানুষ তাদের চাঁদার টাকায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ওই এলাকার রমজান আলী খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখতে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ করেন। বিনিময়ে জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল বাবদ ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, জনপ্রতি ৫ টাকা নেয়ার ফলে পারাপার হতে গিয়ে গরিব মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। তাছাড়া অনেক সময় টাকা না থাকলে ইজারাদার খারাপ ব্যবহার করেন তাদের সঙ্গে। এখানে একটি পাকা ব্রিজ থাকলে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হতো না ওই এলাকাবাসীকে। সেখানে সরকারের কোনো দৃষ্টি নেই দেখারও কেউ নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।

ইজারাদার রমজান আলী বলেন, বর্ষার সময় মানুষ পারাপারের জন্য খেয়া ঘাটে নৌকা থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত হয়। তখন নদীতে নৌকা চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি ওই বাঁশের সাঁকোটি ব্যবহার করে এলাকাবাসী।

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম বলেন, এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ঘাটটি ইজারা নেয়া হয়ে থাকে বার্ষিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে বাড়তি টাকা আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন বলেন, বর্ষায় খেয়া নৌকা আর শুকনায় বাঁশের সাঁকোর ওপর ভরসা করেই চলছে এসব গ্রামবাসীর জীবনযাত্রা।

বিলদহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রশিদ বলেন, নদীটিতে পাকা ব্রিজ না হওয়ায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকায় আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী চলাচল করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ইতোমধ্যে এক স্কুলছাত্র ওই সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে মারাও গেছে। এতেও সরকারের টনক নড়ছে না।

বিলদহর হাটের ইজারাদার মাহবুবুল আলম বলেন, আত্রাই নদীর উত্তর পাশে রয়েছে কলম ও বিয়াস ইউনিয়নসহ চলনবিল এলাকা। ওই এলাকার মানুষ আত্রাই নদী পার হয়ে জেলা শহর নাটোরসহ জেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। তাছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও পোহাতে হয় ভোগান্তির পর ভোগান্তি। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে কাটা ধান বহনকারী গরু ও মহিষের গাড়ি পারাপারে দুর্ভোগ সবচেয়ে মর্মান্তিক ও দুর্বিসহ।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হৃদয় চন্দ্র দাস জানান, স্থানীয় সাংসদ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদের নির্দেশে তিন সপ্তাহ আগে সেখানকার মাটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই।

এলাকাবাসীর দাবি নদীটির দক্ষিণ ও উত্তর পার্শ্বে প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষসহ প্রায় ৪০ হাজার খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচল করে। পারাপারের জন্য ব্রিজ নির্মাণ করে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দূর করার দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের।