মেইন ম্যেনু

বাংগী চাষে ব্যাপক সফলতা: ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার ॥ বিগত বছরের তুলনায় এ বছর কক্সবাজারে বাঙ্গীর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। তারা বিগত বছর গুলোতে প্রাকৃতিক খরার কারণে ফলন কম হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। এ বছর ব্যাপক হারে বাংগীর ফলন হওয়ায় চাষীদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ফলন ভাল হওয়ার মুল কারণ বলে জানিয়েছেন চাষীরা। পরিবেশ ও সঠিক মাত্রায় পরিচর্যার কারণে বাংগী চাষ করে কৃষকরা অধিকহারে লাভবান হতে পারছে।

জানা যায়, অন্যান্য রবি শষ্য চাষে নিযুক্ত চাষীদের ক্ষেতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয়েছে। এতে অন্য কৃষকদের মুখে হতাশা দেখা দিলেও বাংগী চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। অত্যধিক সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকরী ও মুখরোচক ফল হওয়ায় বাংগীর কদর অত্যাধিক। তাই বাজারে প্রতিদিন বাংগী কেনার জন্য মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। স্বল্প সংখ্যক কৃষক এ চাষে জড়িত এবং চাহিদার তুলনায় এখানকার উৎপাদিত ফল মিষ্টি বলেই কৃষকরা এর যথাযথ মুল্য পাচ্ছেন বলে চাষীরা জানান।

চাষীরা জানান, অন্যান্য রবি শষ্য চাষের মত এ চাষে তেমনটি ঝুঁকি নেই। চলতি মৌসুমে চাষীরা বাংগী চাষ করে কৃষকদের মাঝে রীতিমত হৈ চৈ পড়ে গেছে। তরমুজের চাইতে বাংগীতে কম খরচ এবং চাহিদা বেশী হওয়ায় আগামীতে কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়তে পারেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

কৃষি অধিদপ্তর প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ে বেশী বেশী কৃষি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে গ্রামীণ কৃষি ও কৃষক আরো বেশী লাভবান হতে পারে মন্তব্য করে কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষক আবদু রহিম জানান, তিনি এ বছর মাত্র ৬০শতক জমিতে ৩০হাজার টাকা খরচে বাংগী ক্ষেত করে দেড় লক্ষাধিক টাকা পেয়েছেন। অপরদিকে বাঁকখালী নদীর তীরে জনৈক কৃষক শফিক ২০হাজার টাকা খরচায় ১শ শতক জমিতে চাষ করে এক লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, এবছর বাংগী ক্ষেত অনেক কৃষক পরিবার সহজে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছেন।

আরও জানা যায়, বাংগী চাষে প্রতি কানি বা ৪০শতক জমিতে ৭-৮হাজার টাকা খরচ পড়ে। কানি প্রতি ২০কেজি ইউরিয়া, ২০কেজি টিএসপি, ১০কেজি এমওপি ও ১কেজি ফুরাডান সহ সর্বসাকুল্যে ১১শ টাকা খরচে সার প্রয়োগ করা যায়। ১দিন পর পর জমিতে সেচ দিয়ে ১০০-১২০ দিনের মধ্যে এ ফল বিক্রির উপযোগী হয়। এবছর কক্সবাজারের চাষীরা ক্ষেতে স্থানীয় জাতের বাংগীর বীজ বপন করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাত সম্পর্কে ধারণা ও চাষে উদ্ধুদ্ধ করলে গ্রামীণ কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হবে। তারা আরও বলেন, আসলে কৃষি অধিদপ্তরের লোকজন কৃষি উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বড় গলায় কথা বলে মুখে শুধু ফেনা তুলেন। এখানে তারা কাজের কাজ কিছুই করেন না। কৃষকরা প্রশিক্ষণ বিহীন একে অপরের দেখাদেখিতে চাষ করে উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় চলতি কৃষি মৌসুমে বাংঙ্গীর আশাতীত ফলন ভাল হওয়ায় গ্রামীণ কৃষকরা যখনই পরামর্শ চাচ্ছেন তখনই আমরা পরামর্শ পাচ্ছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। তবে মাঠ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত কৃষি ক্লাব সক্রিয় করা ও বেশী বেশী উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।