মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশকে ভীষণ অনুভব করেন মার্কিন মা-মেয়ে

অাধুনিক যুগের দাসত্ব রোধ, মানব পাচার, নারী ও শিশু পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্বের ভূমিকায় এসে, বিশ্ববাসীকে এ বিষয়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস নেওয়ার আহবান জানালো হলো মার্কিন ফরেন রিলেশন্স কমিটির এক শুনানীতে। ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিলের ডার্কসেন ভবনে অনুষ্ঠিত হয় কমিটির বৈঠক।

মানব পাচার রোধে বিশ্ববাসীকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস নেওয়ার আহবান জানানো হয় ওই বৈঠকে।

ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, ‘ইনডিং মডার্ন ডে স্যালভারি: নাউ ইজ দ্য টাইম’ শীর্ষক সিনেট শুনানীতে, মানব পাচার রোধে বিশ্বব্যাপী সরকারী বেসরকারী সংস্থাসমূহ কি ধরণের কাজ করছে, তা তুলে ধরে, বিশ্বব্যাপী মানব পাচার রোধে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহবান জানান দা ম্যাককেইন ইনস্টিটিউটের হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের কো-চেয়ার সিন্ডি ম্যাককেইন।

বৈঠকে উঠে আসে বাংলাদেশের নামও। সিন্ডি ম্যাককেইন, বাংলাদেশ মানব পাচার সমস্যার অন্যতম প্রধান শিকার উল্ল্যেখ করে দেশটির সরকার ও নাগরিক সমাজকে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করার পরামর্শ দেন।

‘বিশ্বের বহু দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি যে আচরণ করা হয়, তাদেরকে যেভাবে নির্যাতিত হতে হয়, তারা যেভাবে পাচারেরর শিকার হন, দাসত্বের শিকার হন, এই আধুনিক যুগে তা মেনে নেয়া যায় না। বাংলাদেশ সেইসব মানব পাচার হওয়া দেশের অন্যতম প্রধান দেশ যেখানে নারী ও শিশুরা পাচারেরর বিপদ থেকে নিরাপদ নয়।’

অভিবাসনের নামে মানব পাচার রোধে তার পরামর্শ কি এমন প্রশ্নে সিন্ডি ম্যাককেইন বলেন, ‘অন্য বহু দেশেও অভিবাসনের নামে মানব পাচার হয়। আমি জানি বাংলাদেশ থেকেও নারী পুরুষ শিশুদরেকে কাজ করতে পাঠানোর নামে পাচার করা হচ্ছে। তা রোধে প্রতিটি দেশের সরকারেরর পক্ষ থেকে কড়া আইন করতে হবে। সত্রীকার অর্থে, যথার্থ ভূমিকা নিতে হবে সরকারকে। কে কোথায় কিভাবে পাচার হচ্ছে, কারা করছে তা খুজে বের করতে হবে। দেশগুলোর নেতাদের দায়িত্ব তাদের নাগরিকদেরকে নিরাপদ রাখা। সরকারকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তার নাগরিকেরা পাচারেরর শিকার হচ্ছে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

বাংলাদেশ সম্পর্কে মনোভাব জানতে চাইলে সিন্ডি ম্যাককেইন বললেন তিনি নিজে একজন বাংলাদেশী কন্যার জননী। ব্রিজিত নামে ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একটি কন্যা রয়েছে তার।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে বাংলাদেশকে ভীষনভাবে অনুভব করে। বাংলাদেশের ভালো সংবাদে সে আনন্দিত হয়। খারাপ সংবাদে বেদনায় আপ্লুত হয়। আমার মেয়ের মতো আমিও চাই বাংলাদেশ ভালো থাকুক।

এখনই সময় তিনি মানবতার বিরুদ্ধের জঘন্য এই অপরাধ বন্ধের আহবান জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাগরিক সমাজ সাংবাদিক সহ সকল পেশাজীবিদেরকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন। সাংবাদিক সমাজ যেনো মানব পাচার বিষয়ে লেখার বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন সে পরামর্শও দেন। যুক্তরাষ্ট্রকে এই মহামারী রোধে নেতৃত্বের ভূমিকায় আসার আহবান জানান তিনি।

সিন্ডি বলেন, এখনই সময় স্মিলিত প্রয়াস নেয়ার।

সিন্ডি ম্যাককেইন বলেন, ‘মানবপাচার বন্ধে বিশেষ করে নারী ও শিশু রোধে ভর্ন নামের একটি কর্মসূচীর আওতা্য় ৪৯ রাজ্যের পুলিশ বিভাগকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়েছেন তারা। যৌন কাজের জন্যে ইন্টারনেটে মানুষ কেনাবেচা ও পাচার রোধে উচ্চ প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হচ্ছে কর্মসূচীতে।

ফ্রি স্লেভস নামক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরচালক মরিস মিডলবার্গ মানব পাচার রোধে তার প্রকতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের বিবরণ তুলে ধরেন।