মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ঠিকানা হতে চলেছে পর্তুগাল

মন্দা কাটিয়ে প্রচুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় পর্তুগালে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াও সহজ হয়েছে। এই কারণে ইউরোপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে পর্তুগাল।

একে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। তার মতে, খরচ ও মানের বিবেচনায় পর্তুগাল হতে পারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আশ্রয়।

পর্তুগিজদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইতিহাস বলছে, ভাস্কো দ্যা গামার পথ ধরে ষোড়ষ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলাদেশে আসে পর্তুগিজরা। এদেশে বসতি গড়া পর্তুগিজদের হাতে যেমন ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ তৈরি হয়েছিলো তেমনি বাংলাদেশে খ্রীস্ট ধর্মের শুরুও হয়েছিলো তাদেরই হাতে। সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিলো যে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫শ পর্তুগিজ শব্দ ব্যবহার হয় বাংলা ভাষায়।

এরপর সম্পর্কে ছেদ পরে। যদিও একটু দেরিতে হলেও সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। পর্তুগালে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম। এগিয়ে আসছেন নতুন নতুন উদ্যোক্তাও।

পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইউরোপে এখন পর্তুগালের সবচেয়ে সহজ ইমিগ্রেশন পলিসি। এই সহজ ইমিগ্রেশন পলিসির জন্য যারা অবৈধভাবে ইউরোপে এসেছে বা বৈধভাবে এসে অবৈধ হয়ে গেছেন বা বিভিন্ন কারণে যারা এখনো লিগাল স্ট্যাস্টাস পায়নি তাদের জন্য পর্তুগালে একটি সুযোগ আছে। এবং সে কারণেই দেখেছি গত এক বছরে পর্তুগালে অনেক লোক আসছে।

দীর্ঘদিন ধরে থাকা পর্তুগালে প্রবাসী ব্যবসায়ী সাহেদ ইব্রাহিম নবী বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কৃষক পর্তুগালে নিয়ে আসবে। পর্তুগাল ও ইউরোপ এমন একটি দেশ যেখানে ঝামেলা ছাড়াই বাংলাদেশিরা সহজেই থাকতে পারবেন।

ইউরোপের মধ্যে পর্তুগালই দিচ্ছে বৈধ উপায়ে অভিবাসী হওয়ার সুযোগ। সে কারণেই এরই মধ্যে নানা দেশ থেকে পর্তুগালে ছুটছে বাংলাদেশিরা। রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের চেষ্টা শুধু মানুষে-মানুষে সম্পর্ক নয় বরং বাণিজ্য বৃদ্ধি।

এ বিষয়ে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বা মালয়েশিয়ার আমাদের শ্রমিকরা যেভাবে আছেন তার চেয়ে খুব ভালো অবস্থায় পর্তুগালে থাকতে পারবেন শ্রমিকরা। এছাড়া শিক্ষার মান ও খরচের বিচারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে পর্তুগালে।