মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর গ্রিনকার্ড দেবে জাপান!

বিদেশিদের থাকার সুবিধার্থে গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে জাপান। এ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশিরা যাতে পাঁচ বছর থাকার সুযোগ পায়, সেজন্য নতুন নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র হিসেবে ‘গ্রিনকার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে দেশটিতে।

জাপানের গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বিদেশি শ্রমিক এবং পেশাজীবীদের জন্য জন্য আইন সহজ করছে জাপান। এ উদ্দেশ্যে নতুন নীতিতে সবচেয়ে কম সময়ে দক্ষ অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন আইন সহজ করার কথা বলেছেন। টোকিও অলিম্পিক ২০২০ এবং নার্সিং হোম প্রকল্পের জন্য আরো বিদেশি শ্রমিক এবং পেশাজীবী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটি।

সম্প্রতি এক টেলিভিশন ভাষণেও শিনজো আবে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে আভাস দেন। ভাষণে তিনি বলেছিলেন, দেশে কিছু কিছু খাতে শ্রমশক্তির মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপানি জনশক্তি দেশের শ্রমশক্তির চাহিদা মেটাতে অপারগ।

প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বিদেশি শ্রমিকদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র হিসেবে গ্রিন কার্ড দেওয়ার কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আদলে এ গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় জাপানে গ্রিনকার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে। তবে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে জাপানে বাধ্যতামূলক পাঁচ বছর বসবাস করতে হবে।

ইনডিপেনডেন্ট জানায়, জাপানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্যেরও নিচে। এ ছাড়া উচ্চ আয়ুর দেশ হওয়ায় দেশটিতে শ্রমশক্তির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এই অবস্থায় দেশটির বিভিন্ন খাতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জনশক্তির অভাব দেখা দিয়েছে।

জাপানের গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে জাপানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

তবে দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া ২০১২ সালে শুরু হলেও ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪ হাজার ৩৪৭ জন এ সুবিধা গ্রহণ করতে পেরেছেন।

এর কারণ হলো বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানে বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া এখনো কঠিন। এ ছাড়া জাপানি সংস্কৃতির কিছু বাধা রয়েছে, যা বিদেশিদের জন্য সমাজে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে। বিদেশিদের জাপানি ভাষা শিখতে হয় এবং তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে জাপানে থাকা বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের সংখ্যা একটি গ্রাফের সাহায্যে দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালে জাপানে বিদেশি শ্রমিকদের সংখ্যা দাঁড়ায় সবেচেয়ে বেশি- নয় লাখ। এর মধ্যে দেশভিত্তিক হিসেবে চীনাদের সংখ্যা বেশি। তারপর আছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেপালের নাগরিকরা। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের কিছু কিছু শ্রমিক রয়েছে জাপানে।

তবে শেষ পর্যন্ত বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আইন সহজ করে তাদের জাপানে থাকার স্থায়ী বন্দোবস্ত করার বিষয়টি কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার বিষয় বৈকি। কারণ জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ঘন ঘন ভূমিকম্পে দেশটি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, যা কারো অজানা নয়।