মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশিদের ফিরে যেতেই হবে : মোদি (ভিডিও)

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতেই হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মাদারিহাটে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদি এ কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যারা ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের আমরা গ্রহণ করেছি। ওদের একটাই দোষ ছিল, তাঁরা অন্য ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। ওদের কখনো ভারতের দালাল, কখনো ভারতের জাদুকর বলে কটাক্ষ করা হতো। আর এই কারণেই নিজেদের সম্মান বাঁচাতে বাংলাদেশ ছেড়ে সেই শরণার্থীরা ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল।’

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনের করা উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘সেই সময় নারীদের ওপর অত্যাচার হতো। নারীরা তাদের ইজ্জত বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে এ দেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল। ভারত সরকার এদের পুরো সুরক্ষা দেবে। এর দায়িত্ব শুধু আসাম কিংবা পশ্চিমবঙ্গের নয়। দেশের প্রতিটি রাজ্যকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। আইন করে এ দেশে তাদের জায়গা দেবে ভারত সরকার। সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু যারা অবৈধভাবে ভারতের অনুপ্রবেশ করেছে, যারা দেশের মানুষের রুটি-রোজগার ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত যেতেই হবে।’

এই নির্বাচনী বক্তব্যে মোদি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস মানে সন্ত্রাস, খুন ও দুর্নীতি। তৃণমূল কংগ্রেস অর্থাৎ টিএমসি মানে টি ফর টেরর (সন্ত্রাস), এম ফর মার্ডার (খুন) আর সি ফর কোরাপশন (দুর্নীতি)। মা-মাটি-মানুষের লোকজন এখন ‘মানি’ নিচ্ছে। মা-মাটি-মানুষ এখন মৃত্যু আর মানির কথা শোনাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কি এই জন্যই পরিবর্তন চেয়েছিল?’

সারদা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, ‘সারদায় অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। সারদায় যেসব মানুষ তাদের সবকিছু হারিয়েছে, তাদের অর্থ যারা লুট করেছে তাদের কি কারাগারে থাকা উচিত নয়?’

নারদ স্ট্রিং অপারেশন নিয়ে মোদি বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ঘুষ নেওয়ার ছবি ধরা পড়েছে। কাজ করার জন্য মা-মাটি-মানুষের নেতারা এখন রুপি নিচ্ছেন। অথচ দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নীরবতা পালন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। আগের বিধানসভা নির্বাচনে দিদি যখন ভোটে লড়াই করেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বামেরা গত ৩৪ বছরে যা করেছিল, সেই পথেই হাঁটছেন দিদি। আজ পশ্চিমবঙ্গে কটা স্কুল আর কটা হাসপাতাল কার আমলে অবস্থা কতটা খারাপ হয়েছে তাই নিয়েই চর্চা হয়। এক সময়ে উন্নত দেখে ইংরেজরা বাংলাকে বেছে নিয়েছিল। আর বাম, কংগ্রেস আর দিদি মিলে সেই বাংলার উন্নয়নকে শেষ করে দিয়েছে। আজ তো পশ্চিমবঙ্গে বাম-কংগ্রেস এক হয়ে গেছে। কিন্ত দিদি যখন দিল্লি যান, তিনি তো তখন সোনিয়াজীর আশীর্বাদ নিতেও ভোলেন না। দিল্লিতে কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকে মমতার অনুপস্থিত থাকা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মোদি।

মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদি বলেন, ‘তিনি কী ধরনের মুখ্যমন্ত্রী? কেন্দ্রীয় সরকার যখন রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক ডাকে তখন দিদি সেই বৈঠক বর্জন করেন। অথচ দিল্লিতে গেলে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আশীর্বাদ নেন তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতেও পিছপা হন না দিদি।’

মোদি আরো বলেন, ‘কলকাতায় যখন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ভেঙে গেল, তখন মরণাপন্নদের বাঁচানোর ব্যবস্থা না করে সেখানে পৌঁছেই দিদি ব্লেম গেম শুরু করলেন। আজ তো ব্রিজ ভেঙেছে, কাল গোটা বাংলা ভেঙে পড়বে। দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে সহায়তা না করে তিনি রাজনীতি শুরু করে দেন। কাজ শেষ হওয়ার পর দিদি যদি ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করতেন তবে তিনি কি বামদের কৃতিত্বটা দিতেন?’

মোদি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখানে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসের জোট নিয়েও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘কেরলে কংগ্রেস ও সিপিআইএম যুদ্ধ করছে আর বাংলায় তারা জোট করেছে।’

এদিন উত্তরবঙ্গের মাদারিহাটের পর আসানসোল ও শিলিগুড়িতে আরো দুটি নির্বাচনী সভা করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রতিটি সভাতে একইভাবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন।