মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ায় ‘ক্ষুব্ধ’ মালয়েশীয় এমপি

আগামী তিন বছরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দেশটির একজন এমপি। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়াকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলেও অভিহিত করেছেন দেশটির কেলাঙ থেকে নির্বাচিত এমপি কার্লোস সান্তিয়াগো।

তার ওই মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদির প্রতি ছয়টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। ফ্রি-মালয়েশিয়ানটুডে নামের একটি সংবাদমাধ্যম রোববার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, উন্নয়নের জন্য দেশটির সরকার যে ১১তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনাগ্রহণ করেছে তা ভুল কৌশল হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন মালয়েশীয় এমপি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও দাবি জানান তিনি। বিদেশি কর্মী না নিয়ে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন এই এমপি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি যে ছয়টি প্রশ্ন ছুড়ে দেন তার মধ্যে- দেশে ১৫ লাখ বিদেশি শ্রমিক আনলে কীভাবে মালয়েশিয়ার জাতীয় লক্ষ্য এবং ২০২০ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে? কোন প্রক্রিয়ায় বিদেশ থেকে শ্রমিকদের আনা হচ্ছে? তার আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমভাণ্ডার বিদ্যমান থাকার পরও কিসের ভিত্তিতে আরো শ্রমিক এদেশে আনা হচ্ছে? অন্য দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া কীভাবে বন্ধ করা যায় তাও সরকারের কাছে জানতে চান তিনি। এ সব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো উত্তর না আসলে সংসদে তোলার হুমকি দেন তিনি। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক না নিয়ে নিজ দেশের জনশক্তি ব্যবহার করার কথা জানান ওই এমপি।

এর আগে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে জানান, সরকার-টু-সরকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া হবে। এ বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এমপি কার্লোস সান্তিয়াগো। সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে কার্যকরী না হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার খবর জানায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো। এ জন্য চুক্তি সই করতে আজ রোববার মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে শুরু করে মালয়েশিয়া। সে অনুযায়ী শুধু সরকারিভাবে মালয়েশিয়ার ‘বনায়ন’ খাতে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু ওই প্রক্রিয়ায় দুই বছরে মাত্র আট হাজার শ্রমিক পাঠাতে সক্ষম হয় সরকার। এরপর এ পদ্ধতি সংস্কার করে এতে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।