মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশেই এখন পালন হচ্ছে উটপাখি

দিনাজপুর: মরুভূমির জাহাজ বলে খ্যাত উটপাখি এখন বাংলাদেশের আবহাওয়াতে পালন করা সম্ভব। আর এই উটপাখি বাঁচে বেশীদিন এবং ডিম দেয় বেশীদিন। এর মাংসও সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। আর তাই এটা পালনও লাভজনক।

আর এ বিষয়ে গবেষণার জন্য বাংলাদেশে একমাত্র হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অভিটোরিয়াম-২ এর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে এ উটপাখির খামার।

বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগি এ উটপাখি পালনের সাফল্যের কথা জানালেন প্রধান গবেষক ও হাবিপ্রবি’র জেনেটিক্স অ্যান্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়া।

গবেষণারত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জানায়, ২ মাস বয়সে গত বছরের নভেম্বর মাসের দিকে হাবিপ্রবিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসব উট পাখি আনা হয়েছে। ১১টি বাচ্চা আনা হলেও প্রথমের দিকে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি মারা যায়। বর্তমানে ৭টি উটপাখি রয়েছে। বাচ্চাগুলো পুর্ণ বয়স্ক হতে প্রায় আড়াই বছর লাগে এবং সেই সময় থেকে ডিমও পাড়ে। একেকটি ডিম দেড়কেজী ওজনের হয়ে থাকে। বছরে একেকটি উটপাখি ৬০ থেকে ১০০টি ডিম পাড়ে। উটপাখি সাধারণত ২-৪ বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। গ্রোথ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশী। পূর্ন বয়স্ক একটি উটপাখির মাংস প্রায় আড়াই মন হয়। এদের খাদ্য সহজলভ্য। এরা নেপিয়ারসহ যে কোন ঘাস, পোল্ট্রি ফিড এবং পাথর এদের খাদ্য। এখানে এখন পর্যন্ত কোন রোগ দেখা যায়নি। তবে এদের বিচরনে পর্যাপ্ত জায়গা লাগে।

গবেষণারত মাস্টার্স শেষ করেছে ডা. মো. রুকুনুজ্জামান জানান, উটপাখির চামড়া মূল্যবান এবং এদের মাংস আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য হিসাবে বিবেচিত। একটি প্রাপ্ত বযস্ক উটপাখির ওজন ৬০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য প্রাণীর মাংসের তুলনায় উটপাখির মাংসে চর্বির পরিমাণ ৩ শতাংশের কম ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ বেশি থাকায় স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন উটপাখির মাংস গ্রহণে আগ্রহী।

প্রধান গবেষক ও জেনেটিক্স অ্যান্ড এনিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়া বলেন, ‘উটপাখি নিয়ে গবেষণায় আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের বৃদ্ধি ঠিকই আছে। বছরে একটি উটপাখি ৬০ থেকে ১০০টি ডিম পাড়ে। এরমধ্যে শতকরা ৫০ভাগও সফল উৎপাদন হয়। কিন্তু গরু পালনে বছরে একটি মাত্র বাচ্চা দেয়। একটি উটপাখির বাচ্চার দাম ৩০ থেকে ৩৫হাজার টাকা।

অতএব সেই তুলনাই গরু পালনের চেয়ে উটপাখি পালন বেশী লাভজনক হবে। কারণ উটপাখি ৫০ থেকে ৭০বছর উৎপাদনক্ষম থাকে এবং এরা বাঁচে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০বছর। আর এদের গ্রোথ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশী। ফলে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার আমাদের দেশে লাভজনক হবে। আর এখনই অনেকেই এই উটপাখির খামার করার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশে উটপাখি বানিজ্যিকভাবে খামার গড়ে উঠলে গরুর বিকল্প হয়ে দাড়াবে।






মন্তব্য চালু নেই