মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

এশিয়া কাপে দুরন্ত পারফর্ম করে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-২০ বিশ্বকাপ মিশনে পা রেখেছে ভারতে। নতুন মিশনে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো দলকে রীতিমতো পর্যদুস্ত করে এশিয়া কাপের রানারআপ হওয়া বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব খেলতে হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। তবে নিয়মের বেড়াজালে আটকা টাইগার বাহিনী নিজেদের প্রমাণে প্রস্তুত।

আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের বাছাইপর্বের গল্পটা ভিন্ন। দুই বছর আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের এক ম্যাচে অসম্ভবকে সম্ভব করে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছিল ডাচরা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সামনে সমীকরণ ছিল এমন, মূলপর্বে যেতে হলে ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১৯০ রান তুলতে হবে। ম্যাচের মাঝ বিরতির শেষ মিনিট পর্যন্তও কেউ হয়তো কল্পনা করেনি ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই করবে ডাচরা। তবে তারা সেটা করে দেখিয়েছিল। তাও আবার তিন বল বাকি রেখে।

ওই টুর্নামেন্টেই পরে ইংল্যান্ডকে ৪৫ রানে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হইচই ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই ইংল্যান্ড ম্যাচের অনুপ্রেরণা নিয়েই মাঠে নামবে ডাচরা। কারণ সেটাই ছিল আইসিসির পূর্ণ কোনাে সদস্যের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ।

আজকের ম্যাচে নেদারল্যান্ডস যদি দুই বছর আগের অনুপ্রেরণা নিয়ে মাঠে নামে। তাহলে বাংলাদেশ নামবে আরো তরতাজা আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবং সেটা আধা সপ্তাহেরও কম সময়। সর্বশেষ এশিয়া কাপই নয়, ২০১৪ সালের শেষ দিক থেকে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যেই অতি বিপজ্জনক। মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তাসকিন আহমেদ ও আল-আমিন হোসেন তারা সবাই হয়ে উঠেছেন এক একজন ম্যাচ উইনার।

ম্যাচ উইনারদের পাশাপাশি আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা চাইবেন তার দলের মাঝপথের অন্যতম কাণ্ডারি সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ব্যাটিং ফর্মে ফিরবেন। সর্বশেষ এশিয়া কাপে এই দুই তারকা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। সেই সাথে মাশরাফির আরো চাওয়া থাকবে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার যেন একটা বিস্ফোরক শুরু এনে দেন।

বিপরীতে গত বিশ্বকাপের মতো একটা স্বপ্নের শুরুর অপেক্ষায় নেদারল্যান্ডস। পিটার বােরেনের নেতৃত্বাধীন দলে রয়েছে স্টিফেন মাইবার্গ, বেন কুপার ও টম কুপারের সমন্বয়ে গঠিত ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং অ্যাটাক। তার উপর নিজ দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটা মিল থাকা ভেন্যু ধর্মশালায় বাংলাদেশের চেয়ে কয়েকদিন আগে থেকে অবস্থান করায় একটু এগিয়ে থাকবে নেদারল্যান্ডস। সেই সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের সুখ স্মৃতি তো থাকছেই।

এই ম্যাচে বাংলাদেশর হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন অনেকেই। দুই ওপেনারের সঙ্গে ইনফর্ম সাব্বির রহমান ও মিস্টার ফিনিশার খ্যাতি পাওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এশিয়া কাপের রান খরা কাটাতে ভালো কিছু করার তাড়না থাকবে মুশফিক-সাকিবের মধ্য। আর বোলিং তাসকিন আহমেদ ও আল-আমিন দুজনেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। তবে দলের সেরা পেস অস্ত্র মুস্তাফিজের খেলা প্রায় অনিশ্চিত। সেক্ষেত্রে ধর্মশালার মতো বোলিংবান্ধব পিচে অনেকটা বেঁচে যাবে নেদারল্যান্ডস।

অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে নেদারল্যান্ডস দলে ফিরেছেন টম কুপার। ২০১৪ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। ওই বিশ্বকাপের পর আর দলে না থাকলেও আবার ফিরেছেন তিনি। সেই সাথে অধিনায়ক স্টিফেন মাইবার্গ ও মিডল অর্ডারে আহসান মালিক ও ভ্যানডার মারউই রয়েছেন। আর বোলিংটা সামলাবেন কুপার ভ্রাতৃদ্বয়।

দুদলের সর্বশেষ সাক্ষাতে জয়টা যেমন নেদারল্যান্ডসের। তেমনি সর্বশেষ পাঁচ টি-২০’র ফলাফলেও এগিয়ে ডাচরা। শেষ পাঁচটির তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। আর নেদারল্যান্ডস জিতেছে চারটিতে। তবে সব হিসেব-নিকেষ চুকিয়ে সর্বশেষ এশিয়া কাপের পারফর্মেন্স ও আত্মবিশ্বাস প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশ এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে টাইগারদের কাজ শুধু এই আত্মবিশ্বাসের চ্যালেঞ্জটা জয় করা।

পাহাড় ঘেরা ধর্মশালায় প্রায় ধারাবাহিকভাবে তুষারপাত হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকলে আবহাওয়া শুষ্ক। মঙ্গলাবার দিনটা ছিল সূর্যকরোজ্জ্বল। আবহাওয়া আজও তেমনটাই থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া দফতর ও ওয়েদার ডটকম।

ধর্মশালার পিচ ঐতিহাসিকভাবেই বোলিংবান্ধব। প্রায় সিমেন্টের মতো শুষ্ক পিচে কিছু ঘাসও থাকবে। যথেষ্ট বাউন্সি উইকেটই পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস। ফলে ব্যাটসম্যানদের ছাপিয়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিত পারেন দুদলের পেসাররা।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা(অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম(উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান/আরাফাত সানি, আল-আমিন হোসেন, নাসির হোসেন এবং তাসকিন আহমেদ।

সম্ভাব্য নেদারল্যান্ডস দল: স্টিফেন মাইবার্গ, ওয়েসলি বারেসি, বেন কুপার, টম কুপার, রােয়েলফ ভ্যান ডার মারউই, টিম ভ্যান ডার গুটেন, আহসান মালিক, লোগান ভ্যান বিক/পল ভ্যান মেকিরিন, পিটার বোরেন এবং মুদাসসর বুখারি।



« (পূর্বের সংবাদ)