মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের গার্মেন্টসকে ‘দাস শ্রমের পণ্য’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র !

শিশু শ্রম, দাসত্ব ও নিপীড়িত নারী শ্রমিকের মাধ্যমে উত্পাদিত পণ্য নিষিদ্ধ সংক্রান্ত একটি বিলে (সংশোধিত ট্যারিফ আইন) সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বুধবার সই হওয়া এ বিলে বাংলাদেশে তৈরী পোশাক ‘নির্যাতিত নারীদের’ দ্বারা উৎপাদিত দাবি করে বলা হয় এ পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দাস শ্রমিকদের দিয়ে ধরা মাছ, আফ্রিকায় সোনার খনি থেকে শিশুশ্রম ব্যবহার করে উত্তোলিত সোনা এবং বাংলাদেশে নির্যাতিত নারীদের দিয়ে তৈরি করা পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে না। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দাস শ্রমিকদের দিয়ে ধরা মাছ, আফ্রিকায় সোনার খনি থেকে শিশুশ্রম ব্যবহার করে উত্তোলিত সোনা এবং বাংলাদেশে নির্যাতিত নারীদের দিয়ে তৈরি করা পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে পারবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন টাইমস এবং গার্ডিয়ানও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এপি এবং এই পত্রিকা দুটিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি আরোপিতভাবে আনা হয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় জোর করে কাজ করানোর বিষয়টি ঠিক আছে। কিন্তু বাংলাদেশের পোশাক খাতের নারী শ্রমিকদের নিয়ে এটা বলা হলে তা হবে সম্পূর্ণ বাস্তবতাবিবর্জিত।’

থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সমুদ্রে জেলেদের জোর করে আটকিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ আছে। এই দাস শ্রমিকদের মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারাও আছে। পাচার হয়ে এবং বিভিন্ন পথে এই মানুষগুলো থাইল্যান্ডে গিয়ে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে। তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের পর অন্তত দুই হাজার জেলে বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং ১২ জন পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা এপি দাবি করেছে। থাইল্যান্ডের সামুদ্রিক মৎস্যপণ্যের বাজার ৭৩০ কোটি ডলারের। শুধু সামুদ্রিক মাছ নয়, ইলেকট্রনিকস পণ্য এবং কোকো আমদানিতেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ধারা থাকছে ট্যারিফ আইনে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে অন্তত ২ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে এ রকম জোর করে কাজ করানো হয়। এই অবৈধ শিল্প থেকে মুনাফা আসে বছরে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ট্যারিফ আইন সংশোধনের বিলটি তুলেছিলেন দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান শ্যারড ব্রাউন। এপিকে গত বুধবার তিনি বলেন, ‘এটা ৮৫ বছর ধরেই আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল যে জোর করে কাজ করানো হয় এবং দাসের মতো আচরণ করা হয়—এমন মানুষদের তৈরি পণ্য আমরা আমদানি করছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের এই আইন বৈশ্বিক দাসত্ব দূরীকরণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে এসব প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের নিয়ে খুব বেশি কিছু উল্লেখ নেই। বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ আইন সংশোধনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে জোর করে কাজ করানোর কোনো নজির নেই।