মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাস যত বড়, ঠিক ততোই ছোট বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাস। কিন্তু সময়ের হাত ধরে বাংলাদেশের নারী ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর প্রথম কোনো নারী ফুটবলার হিসেবে বিদেশি লিগে খেলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সহ-অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার দেখানো পথ ধরে চলতি বছর আরো দুজন মালদ্বীপে গিয়ে খেলে এসেছেন। তবে বড় আসরগুলোতে শিরোপা জয়ের সাক্ষী হতে পারেনি আমাদের নারীরা। জাতীয় দলের সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও রোববার ঘুচিয়েছে বয়সভিত্তিক দল।

রোববার নেপালের আর্মি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। যা বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন।

এই শিরোপাটা ৭ মাস আগেই বাংলাদেশের মেয়েদের হাতে উঠতে পারত। কিন্তু গেল এপ্রিলে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে সেটি হয়নি। তখন ফাইনাল না খেলেই দেশে ফিরে আসতে হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ দলকে। এরপর ফাইনালের তারিখ নির্দিষ্ট হতে হতে সাত মাস পেরিয়ে যায়। অবশেষে ২০ নভেম্বর নির্ধারিত হয় ফাইনালের তারিখ।

কিন্তু ভয় ছিল। একদিকে নেপাল স্বাগতিক দেশ। যারা সেমিফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছে। অন্যদিকে প্রচ- ঠা-া। নেপালে বিকেল গড়ালেই তাপমাত্রা ৯ থেকে ১০ ডিগ্রিতে নেমে আসে। কিন্তু নেপাল কিংবা সেখানকার প্রচ- ঠা-া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি বাংলাদেশের কিশোরীদের জয়ে।

ঘরের মাঠে খেলা হলেও বাংলাদেশের কাছে খুব একটা পাত্তা পায়নি নেপালের কিশোরীরা। অবশ্য বাংলাদেশের মেয়েরা অনেকগুলো গোলের সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। কিন্তু নেপালের উপর তারা যেভাবে প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে তাতে গোলের ব্যবধান আরো বেশি হলে মন্দ হত না।

হোক বয়সভিত্তিক দলের শিরোপা জয়। হোক না কম ব্যবধানে জয়। কিন্তু এই জয় যে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের ভবিষ্যৎবাণী। কিশোরী ফুটবলাররা যে নারী ফুটবলের ঝা-া উচ্চে তুলে ধরল। বাংলাদেশের কিশোরীদের মধ্যে শিরোপা জয়ের যে ক্ষুধা, যে আকাঙ্খা দেখা যাচ্ছে। সেটার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুন আরো অনেক বছর। জয়তু বাংলাদেশের নারী ফুটবল।