মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশের মায়েরাই পারেন জঙ্গি নির্মূল করতে

গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে সম্প্রতি মর্মান্তিক জঙ্গি হামলা নাড়া দিয়েছে সারা দেশ। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোকে ঢাকা পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বড় ছোট, হিন্দু মুসলিম সবাই এখন ভাবছেন জঙ্গির হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পাবে দেশ। অনেকেই ভাবছেন অনেক কিছু।

তবে চিত্র নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন মনে করেন, মজবুত পারিবারিক সম্প্রীতিরর বাংলাদেশে প্রতিটি পরিবারের মায়েরাই জঙ্গি নির্মূলে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন।

সোমবার রাত ১০টায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, `দুদিন খুব আপসেট থাকার পর কাল সন্ধ্যায় হঠাৎ মনে হলো বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ রুখে দেয়া সম্ভব। খুব কারযকর ভাবে, দ্রুত রুখে দেয়া সম্ভব।

আমি কখনোই মনে করিনি প্রশাসন নিয়ে জঙ্গীবাদ ঠেকানো যাবে, যাবার কথাও না। প্রশাসন আপনার আমার ঘরে যেতে পারেনা, শুধু আমরা যখন বাইরে গিয়ে চেচাই, মানে আপত্তিকর কিছু করি – তখনই কেবল প্রশাসন আমাদের দেখে ও থামিয়ে দেয়। চেঁচানোর কারণটা তৈরী হয় ঘরে। সেটার কারণ পারিবারিক ও সামাজিক। যেখানে প্রশাসনের সত্যিকার অর্থে করার কিছু নেই।

আমার বিশ্বাস ছিল , রুট লেভেলে সত্যিকারের সাংস্কৃতিক জাগরণই একমাত্র পারে জঙ্গীবাদ ঠেকাতে। কিন্তু গুলশান ঘটনার পর তা আর একমাত্র ও পুরোপুরি কারযকর মনে হচ্ছেনা, কারণ তখনও জঙ্গীবাদের এই চেহারাটি দেখিনি। তাই হতাশাটা তীব্র ছিল, আমাদের দেশ কিভাবে জঙ্গীমুক্ত হবে, এই স্লিপার সেলকে ঠেকাবো কি দিয়ে- রাজনীতির পথটা আরো হতাশার। তাহলে কি– কিন্তু আছে – আমাদের একটি টুল তৈরীই আছে- শুধু কাজে লাগাতে পারলেই হয়।

কিন্তু আমাদের একটা শক্তি আছে , যা পশ্চিমা বিশ্বে নেই, আফগানে নেই, মধ্যপ্রাচ্যে নেই। তা হলো খুব নিবিড় পারিবারিক বন্ধন। ঠিক মত চোখ কান খোলা রাখলে সন্তানের প্রথম প্রেমতো দূরের কথা, প্রথম মৈথুন বাবা-মা টের পায় বা পাওয়া সম্ভব। সেই দেশে পরিবারের চোখ ফাঁকি দেয়া সম্ভব না, প্রয়োজন শুধু সন্তানদের পরযবেক্ষণ করা ও নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিটা নিয়ে নতুন করে ভাবার। প্রত্যেক অভিভাবককে সচেতন হয়ে তার পরিবার উপযোগি একটা মডিউল তৈরী করতে – যেটার মাধ্যমে তার ইনোসেন্ট সন্তানটির মিথ্যা ধরতে, তাদের পরযবেক্ষণ করতে ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, আবারো বলছি সেটা হতে হবে, খুব ইম্প্রোভাইজ- প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য আলাদা আলাদা।

সাথে আমাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে আছে – যার চোখকে কখনো ফাঁকি দেয়া যায় না, এমন এক মা। বাংলাদেশের প্রতিটি মা পারে এই দেশকে জঙ্গীমুক্ত করতে। শুধু মা-দের জানতে হবে, মা-দের জানাতে হবে, মা-দের সুযোগ করে দিতে তার সন্তানকে চোখে চোখে রাখার। মাদের বোঝাতে হবে- সন্তানদের দুরে সরিয়ে নয়, বরং কাছে টেনে সমাধান হবে সমস্যার। আর জঙ্গীবাদের অন্যান্য যেসব কমপোনেন্ট আছে রিক্রুটমেন্ট বনধ হলে সেগুলো এমনিতেই অকারযকর হয়ে যাবে। প্রতিটি মা যদি হয়ে উঠে সত্যিকারের ঘরের পুলিশ- ভাবতে পারেন একবার- কোন খরচ ছাড়া- তৈরী করা আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক। সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে কারয্কর।

আসুন না ফেসবুকে গোয়েন্দাগিরিতে-নজরদারির সময় থেকে অর্ধেকটা সময় বের করে – মাদের জানাই তাদের শক্তির কথা। নিজের ঘর – আত্মীয় স্বজনদের ঘর- ফেসবুক- সবখান থেকেই না হয় শুরুটা হোক। যতদিন না পরযন্ত এ্ই দেশে মা-রা চাইবে তাদের সন্তানরা জঙ্গী হোক – ততদিন জঙ্গীবাদের গুলশান চেহারা ঠেকাতে মা-দের চেয়ে বড় শক্তি আর নেইা। শুধু মা-দের বোঝাতে মা-রাই পারে দেশ-মাটাকে বাঁচাতে। খালি একবার বিশ্বাস করুন পুলিশের সবচেয়ে দক্ষ অফিসারটি আমাদের ঘরে আছে- সেটা বিশ্বাস করান প্রতিটি মাকে- চোখের নিমেষে বদলে যাবে সব।

এতগুলো বিজ্ঞাপন এজেন্সী আছে , সরকার আছে, বিভিন্ন কোম্পানী আছে, এনজিও আছে, প্রাণ-ওয়ালটন-স্কয়ার, গ্রে-এশিয়াটিক-বিটপি, টেলকো আছে – আর না কিছুই না হলে বিনে পয়সায় খেটে যাওয়া আমরা ফেসবুক কর্মীরা তো আছিই। ব্যপক প্রচার করাকি খুব কঠিন হবে? চলুন না শুরুটা করি এখন থেকেই।