মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশে আইএস সম্পৃক্ততার দাবি সরকার উড়িয়ে দিচ্ছে না : ইনু

ঢাকার গুলশানে মাত্র গত শুক্রবার পয়লা জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর বৃহস্পতিবার আবার কিশোরগঞ্জে ঈদের জামায়াতের আগে এই হামলা হলো।

বাংলাদেশের এই নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন সরকার, এবং কেন এধরণের হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না?

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, সরকার সতর্ক ছিল বলেই হামলাকারীরা শোলাকিয়ার ঈদগাহ ময়দান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন সারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল বলেই শোলাকিয়ার তিন লক্ষ লোকের ঈদের জামাত নির্বিঘেœ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

“যেহেতু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল সেহেতু সেখানে জঙ্গী হামলাকারীদের বেশিরভাগ সদস্যকেই আমরা আটক করতে পেরেছি অথবা ধ্বংস করতে পেরেছি।”

বাংলাদেশে এখন নজিরবিহীন বড়ধরনের যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে বাংলাদেশ সরকার উদ্বিগ্ন কীনা এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন সরকার উদ্বিগ্ন বলেই এধরনের আত্মঘাতী হামলা মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক জ্ঞান বা তথ্যের জন্য সরকার সহযোগিতা চেয়েছে।
তিনি বলেন সরকার দেশের ভেতরে সমগ্র পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করেছে এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পুলিশকে দক্ষ করে তুলেছে, যার জন্য সরকার দ্রুত সফলতা অর্জন করতে পারছে বলে তিনি দাবি করেন।

গুলশান হামলার এক সপ্তাহ পর কারা ওই ঘটনার পেছনে ছিল সে বিষয়ে তদন্তে অগ্রগতি কতটুকু জানতে চাইলে হাসানুল হক ইনু বলেন বিষয়টি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

“এই তদন্ত একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, তবে এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেইজন্য ঢাকার সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি।”

গুলশানের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা দাবি করছে তারা ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে এই হামলা করেছে। এর মধ্যে ইন্টারনেটে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে আপাতদৃষ্টিতে তিনজন বাংলাদেশিকে দেখা গেছে বাংলাদেশে আরও হামলার হুমকি দিতে। এই ভিডিওটি এসেছে সিরিয়ার রাকা থেকে যেটি ইসলামিক স্টেটের সদর দপ্তর বলে পরিচিতি। সরকার কি তাহলে এখনও মনে করছে বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের কোনো তৎপরতা নেই?

তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, “বাংলাদেশে যেসব জঙ্গী আটক আছে বা যেসব জঙ্গী সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশের ভেতরে কাজ করছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বা অন্যভাবেও আজ পর্যন্ত আমরা এমন কোনো তথ্য পাই নি যে সাংগঠনিকভাবে বা অন্য কোনো ভাবে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে আমাদের দেশজ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো সংযুক্ত বা সম্পৃক্ত হয়েছে।”

এখন আইএস-এর কাছ থেকে এসব হামলায় জড়িত থাকার যেসব দাবি করা হচ্ছে তথ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা পুলিশ কর্তৃপক্ষ তা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

“আমরা নতুন করে আইএস-এর কোনো সম্পর্ক আছে কীনা বা পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক আছে কীনা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক আছে কীনা অথবা বিএনপির কোনো সদস্যের সম্পর্ক আছে কীনা অথবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের সম্পর্ক আছে কীনা এর সবগুলোই আমরা খতিয়ে দেখছি।’’

তিনি বলেন যেহেতু আইএস এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তানের তালেবান আল-কায়েদারা আন্তর্জাতিক ভাবে কাজ করে, সেরকম সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ যদি পাওয়া যায়, তাহলে তা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক যৌথ পন্থা অবলম্বন করবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন এ যাবৎ জঙ্গী সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জিজ্ঞসাবাদে এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ সরকার পায় নি যাতে বলা যায় দেশের বাইরে কোনো জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। বিবিসি বাংলা