মেইন ম্যেনু

‘বাংলাদেশে না গিয়ে দেশকে ডোবাচ্ছেন মরগ্যান’

কয়েক দিন ধরেই তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, আসছেন না। শনিবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানোর আগেই ব্রিটিশ একটি পত্রিকা খবর দিলো, নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ সফরে আসছেন না দলটির নিয়মিত ওয়ানডে অধিনায়ক এইউন মরগ্যান।

এই খবরের সাথে সাথেই ইংল্যান্ড জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার, ধারাভারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে ভক্তরা প্রবল সমালোচনা করছেন তার। আইরিশ মরগ্যানকে ইংলিশরা এখন অভিযুক্ত করছেন, তাদের মানসম্মান ডোবানো এবং তরুণদের সামনে বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য।

একসময় আয়ারল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা মরগ্যান এখন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে আসছে ক্রিকেটে মন দিতে পারবেন না তিনি। উল্টো দিকে, এই সময়ে এমনিতেই ছুটিতে থাকার কথা ছিলো টেস্ট অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের। তিনি ছুটি বাতিল করে দলের সামনে উদাহরণ হওয়ার জন্য আসছেন বাংলাদেশে। এই দুটি ঘটনা দুই অধিনায়ককে বিপরীত মেরুতে দাড় করিয়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে তীব্র ও কঠোর ভাষায় মরগ্যানের সমালোচনা করেছে ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম মেইল। তারা হেডিং করেছে, ‘বাংলাদেশ সফর থেকে সরে দাঁড়িয়ে দেশকে ডোবাচ্ছেন মরগান, ঝুঁকিতে ফেলছেন নিজের ক্যারিয়ার।’

তাদের মতে মরগ্যানকে অপ্রয়োজনে ইসিবি অনেক সময় দিয়েছে। কিন্তু এখন প্রয়োজনের সময় তাকে না পাওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ পত্রিকাটি, ‘তরুণ সতীর্থদের জন্য যখন তাদের অধিনায়ককে সবচেয়ে বেশি দরকার, তারা যখন চাইছিল যে, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে অধিনায়ক সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিমানে উঠবেন, সেই সময় মরগ্যান এমন একটা কাজ কীভাবে করে? অথচ এই মরগ্যান যখন টানা ২১ ম্যাচ ফিফটি ছাড়া ছিল, তখনো নির্বাচকেরা তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।’

এরপর মরগ্যানকে একজন আবেগহীন, ইংল্যান্ডের প্রতি ভালোবাসাহীন আইরিশ বলে চিহ্নিত করেছে, ‘দলে সে সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন ও আবেগহীন চরিত্র। ইংল্যান্ডের এই আইরিশ অধিনায়ক বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে দেশের জাতীয় সংগীত গাইতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি তার মিডলসেক্স সতীর্থদেরও তার সঙ্গে হৃদ্যতা নেই। আশ্রিত দেশের হয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সে নিজের দেশকে বাদ দিতেও দ্বিধা করেনি।’

এরপর মেইল লিখেছে, ‘এটা এমন একটা সিদ্ধান্ত, যেটা তাকে তাড়া করে ফিরতে পারে।’ মেইলের এই কথার সাথে একমত আরও অনেকে। কেভিন পিটারসেন আগের দিনই বলেছেন, মরগ্যান এমন করলে সারা জীবনের জন্য পস্তাতে হবে তাকে। সাবেক অধিনায়ক, ধারাভাষ্যকার ও কলামিস্ট নাসের হুসেইন তো গার্ডিয়ান পত্রিকায় বলেই দিয়েছেন, এতে করে মরগ্যান দলে তার কর্তৃত্ব হারাতে পারে।

মরগ্যান অবশ্য না আসার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন তার আগের অভিজ্ঞতার। ২০১০ সালে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় মাঠের বাইরে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিলো। সেই ভয় আরেকবার পেতে চান না বলে দাবি করেছেন তিনি।

আর যথার্থই তার এই কথায় প্রবল ক্ষুব্ধ ডেরেক প্রিঙ্গল কোনো যুক্তি দেখতে পাচ্ছেন না। সাবেক ইংলিশ পেসার ও ক্রিকেট সাংবাদিক ডেরেক প্রিঙ্গল বলছেন, ভারতে বাজে অভিজ্ঞতা থাকলেও মরগ্যান ভারতে ঠিকই যাচ্ছেন! ভারতে গিয়ে আবার বাংলাদেশ সফরে না থাকার সিদ্ধান্তে চটেছেন প্রিঙ্গল, ‘ভারত সফরে বোমা হামলার স্মৃতির কথা বলে মরগান ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে দিল। কিন্তু সে তো ভারতে যাওয়া বন্ধ করেনি।’

এদিকে ব্রিটিশ সাংবাদিক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগান ইংল্যান্ড অধিনায়ককে টুইট করে বলে দিয়েছেন নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে, ‘নাটক ছাড়ো। হয় বাংলাদেশে যাও, না হলে অধিনায়কত্ব ছাড়ো। নেতাদের আগে থাকতেই হবে।’-ইত্তেফাক