মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

1466684688আজ বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি’র ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ থেকে ৩৭ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৯৭৯ সালের ২৪ জুন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র- আইনের শাসন, মানবাধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি যাত্রা শুরু করে। এ দলটি বর্তমানে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীকদল।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি’র ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আগামী ২৬ জুন’১৬ইং [২০ রমজান], রবিবার রাজধানীর গোল্ডেন প্লেট রেষ্টুরেন্ট [বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের পশ্চিম পাশে]-এ “মাহে রমজানের শিক্ষা ও আজকের প্রেক্ষাপট” শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব জননেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত থাকবেন রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ব্যক্তিবর্গ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি’র চেয়ারম্যান এম.এ তাহের চৌধুরী।

মহান ভাষা আন্দোলনের অগ্রসেনানী, ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন “ছাত্র শক্তি”র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী মরহুম এডভোকেট ফরমান উল্ল্যাহ খান-এর নেতৃত্বে নেতৃত্বে এদেশের আলেম-উলামা, আইনজীবী-সাংবাদিক সহ সকল শ্রেণী-পেশার জনগণকে নিয়ে ১৯৭৯ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে আরম্ভ করে বিগত ৩৬ বৎসরে এদেশে যত গুলি জাতীয় পর্যায়ের জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সব কটি জোটেই বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি গভীর ভাবে সম্পৃক্ত ছিল। বিশেষ করে ১৯৮০ সালে ন্যাশনাল ফ্রন্ট, পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় ঐক্যজোট। বি এন পি’র নেতৃতাদীন তৎকালীন ৭ দলীয় ঐক্য জোট। সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটেও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি গভীর ভাবে সম্পৃক্ত আছে।

বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির উক্ত কমিটিতে মরহুম এডভোকেট ফরমান উল্ল্যাহ খান ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও মরহুম এডভোকেট মশিউর ইসলাম ছিলেন মহাসচিব। ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন মরহুম এডভোকেট শেখ আশরাফ হোসেন, মরহুম এডভোকেট মোল্লা আবদুস সাত্তার, মরহুম এডভোকেট আবদুল মালেক, মরহুম এডভোকেট মজিবুর রহমান। মরহুম এডভোকেট আজিজুল্ল্যাহ ভূইয়া [সহকারী মহাসচিব], মরহুম হোসেন আলী-আলী ভাই [সাংগঠনিক সম্পাদক], মো: মহিউদ্দিন [সহকারী-সাংগঠনিক সম্পাদক], মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবদুল মোবিন [প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক], হারুন অর রশিদ [শ্রম বিষয়ক সম্পাদক], আবু তাহের চৌধুরী [যুব বিষয়ক সম্পাদক], মরহুম হাফেজ আবদুস সালেহ [সদস্য] প্রমূখ।

এভাবে দলের কার্য্যক্রম চলতে থকে বেশ কিছু দিন। পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব এডভোকেট মশিউর ইসলাম ইন্তেকাল করলে এডভোকেট ফরমান উল্ল্যাহ খান পুন:রায় চেয়ারম্যান ও মরহুম এডভোকেট শেখ আশরাফ হোসেনকে মহাসচিব নির্বচিত করা হয়। এভাবে কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এডভোকেট ফরমান উল্ল্যাহ খান অবসর গ্রহন করলে দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে দলকে পুন:গঠন করা হয়।

পার্টির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের একের পর এক ইন্তেকাল ও পালাবদলের এক পর্যায়ে তিনি তার সাংগঠনিক কর্ম ও দক্ষাতায় দলের কেন্দ্রীয় সকলের সিদ্ধান্তে এডভোকেট আবদুল মোবিনকে মহাসচিব নির্বাচিত করা হয় এবং মরহুম এডভোকেট শেখ আশরাফ হোসেনকে চেয়ারম্যান করা হয়। এভাবে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির কার্য্যক্রম চলতে থকে বেশ কিছু দিন। একসময় দলটির প্রধানের পদ শূন্য হলে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা সর্বসম্মতিক্রমে মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবদুল মোবিন কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। এতে দলীয় নেতা-কর্মীরা উৎসাহ বোধ করেন। মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবদুল মোবিন-এর নেতৃত্বে দল আরো সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল হয়ে প্রগতীর দিকে এগিয়ে যায়। তিনি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে রাজনীতিতে সকল নেতৃবৃন্দের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেন। মিছিলে, মিটিংয়ে, বক্তৃতায়, বিবৃতিতে, পত্র পত্রিকায়, টেলিভিশনে তাঁর ছবি সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

সেই ১৯৭৯ সাল থেকে আরম্ভ করে বিগত ৩৬ বৎসরে এদেশে যত গুলি জাতীয় পর্যায়ের জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সব কটি জোটেই মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবদুল মোবিন ও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি গভীর ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মরহুম আলহাজ্ব এডভোকেট আবদুল মোবিন-এর ইন্তেকালের পর তাৎক্ষণিক ব্যারিষ্টার সায়েদুল হাসান ইকবাল দলের হাল ধরেন। পিতার মত নিজ দক্ষতায় ও বিচক্ষণতায় দলের নেতা-কর্মীদের আগলে রাখেন ছায়া হয়ে। দলের অবস্থান ও নিজেকে ২০ দলীয় জোটের একজন সহকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও নেতা-কর্মীদের নিয়ে ছুটে যান জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। দীর্ঘ সময় আলোচনা হয় নেত্রীর সাথে। দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের এবং নতুন চেয়ারম্যানকে উৎসাহ দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া ।

অতপর ব্যারিষ্টার সায়েদুল হাসান ইকবাল স্ব ইচ্ছায় দলের চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহন করলে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের পরামর্শে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং অতিরিক্ত মহাসচিবকে পূর্ণ মহাসচিব করা হয়।

লেখক ও সংকলন-
মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান
সাংগঠনিক সম্পাদক- বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি
আহবায়ক- এডভোকেট আবদুল মোবিন স্মৃতি সংসদ
আহবায়ক- আদর্শ নাগরিক আন্দোলন