মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিচ্ছে না সৌদি আরব

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী আমদানি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরবের নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যালয়গুলো। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি সংক্রান্ত আনুষাঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে স্থানীয় আরব নিউজ পত্রিকা জানিয়েছে। তারা এখন নেপাল থেকে গৃহকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

সৌদি আরবের নিয়োগ বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম আল মেঘেইমিশ জানাচ্ছেন, গৃহস্থালী কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে স্বল্প সংখ্যক শ্রমিকই মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে এসে থাকেন। এসব শ্রমিকদের সৌদি আনতে জনপ্রতি ব্যয় হয় ৭৬ হাজার ৪৬৬ টাকা থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৯ টাকা। উপরন্তু সৌদির শ্রম মন্ত্রণালয়ের বেধে দেয়া ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬১৬ টাকা (সৌদি মুদ্রায় ৭ হাজার রিয়েল )। ফলে এই শ্রমিক রপ্তানি খাতে নিয়োগ সংস্থাগুলোর ব্যয়ভার ৮০ ভাগ বেড়ে গেছে। এত বেশি পরিমাণ অর্থ খরচ করে বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী আনা পোষায় না বলেও মন্তব্য করেছেন ওই বিশেষজ্ঞ। এ প্রসঙ্গে নিজ দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় নিয়োগ ব্যয় ঘোষণা করেছে মার্কিন ডলারে, যাকে তিনি বিস্ময়কর বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিটি মেনে চলা উচিত।

ওই সৌদি বিশেষজ্ঞ আরো দাবি করেছেন, সৌদিতে গৃহস্থালী কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৫ লাখ শ্রমিক আসছে বলে মন্ত্রণালয় যে তথ্য দিয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সৌদিতে সপ্তাহে মাত্র চার থেকে ছয় জন শ্রমিক আসে বলেও তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে শ্রমিক প্রশিক্ষণ শিবিরের স্বল্পতার কারণে শ্রমিক আমদানিতে এই বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আল মেঘেইমিশ।

এদিকে নেপালে সৌদি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেপাল থেকে সৌদিতে গৃহকর্মী আমদানির ওপর দু দেশের মধ্যে শীঘ্রই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষর হলে নেপাল থেকে কম মূল্যে গৃহকর্মী নিতে পারবে সৌদি সরকার। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো দালালদের নিয়োগ দেয়া হবেনা বলেও দাবি করেছে নেপাল সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, নেপালের শ্রমমন্ত্রীর আসন্ন রিয়াদ সফরের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।