মেইন ম্যেনু

বাংলাদেশ থেকে সরে গেল দুই আন্তর্জাতিক সম্মেলন

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার জেরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় দুই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক মানিলন্ডারিং গ্রুপ সোমবার তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স সংস্থাটির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্মেলন স্থল পরিবর্তন করছে।

এছাড়া টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংস্থা এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের (APNIC 42) সম্মেলনটিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত ১ জুলাই গুলশানে একটি স্প্যানিশ রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হওয়ার ১০ দিন পর এই ঘোষণা এলো।

দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং নামের সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন আগামী ২৪-২৮ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই সম্মেলনে ৩৫০ জন বিদেশি অতিথির উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। এই সম্মেলনে মূলত অবৈধভাবে মুদ্রা স্থানান্তর এবং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থযোগান ঠেকানোর বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

গ্রুপটি তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত সম্মেলনটি আগামী সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোন শহরে ঠিক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জুলাই ১ ও ২ তারিখের ঘটনায় সাত জাপানি, নয় ইতালীয়, এক আমেরিকান এবং একজন ভারতীয় নিহতের ঘটনার জেরেই সম্মেলনস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। যেখানে গুলশানের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

এদিকে টেলিযোগাযোগ বিষয়ক আরেকটি সম্মেলন সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার বা APNIC 42 এর সম্মেলনটি আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেটি এখন শ্রীলংকা বা থাইল্যান্ডে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এই সম্মেলনে ৪৫০ জন বিদেশি প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গুলশান হামলার ঘটনার পর বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি নিয়েও হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২৬ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্ট খাত সবচে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যা অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে।

এছাড়া রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার এখনো ফেরত পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ফেব্রুয়ারিতে এসব অর্থ চুরি গেলেও ফিলিপাইন থেকে ফেরানোর চেষ্টা সফল হয়নি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স