মেইন ম্যেনু

বাংলা নববর্ষে হিন্দি গানের ছড়াছড়ি

পুরনো বছরের সব জীর্ণতা, আবর্জনাকে বিসর্জন দিয়ে নতুন বছরকে আহ্বান করে রবীন্দ্রনাথ তার গানে বলেছেন- “এসো হে বৈশাখ এসো, এসো/ তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক এসো এসো”।

বৈশাখকে আহ্ববান করতে গিয়ে বসুধাকে অগ্নিস্নানে শুচি করার প্রয়াস পেয়েছিলেন কবিগুরু। পুরনো স্মৃতি, গীতি, অশ্রুবাষ্পকে সুদূরে ঢেলে দিয়ে সব গ্লানি, জরা ঘুচিয়েই উতলা বৈশাখকে বরণ করতে চান কবি। তাই হয়তো গীতিকবির কণ্ঠে স্বদেশের প্রতি এমন অকৃত্রিম প্রেমোচ্ছ্বাস উথলে উঠে।

পহেলা বৈশাখ। ১৩২৩ বঙ্গাব্দ। দিনটিকে ঘিরে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন। হয়তো পথের মোড়ে অথবা গলির ভেতর অথবা গাছের ছায়ায় বন্ধুরা মিলে গান-বাজনার আয়োজন করেছে। গানও থেমে নেই। সকাল থেকেই হরদম বেজে চলেছে একের পর এক।

কিন্তু আক্ষেপ এখানেই। হাজানো গানের ভিড়ে একবারও শোনা যাচ্ছে না অতুল প্রসাদ সেনের “মোদের গরব মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা” গানটি। কিংবা লালন, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, রাধারমনদের কালজয়ী এরকম দেশীয় সংস্কৃতির কিছু গান। যেখানে বৈশাখ মানে হচ্ছে আপন আত্মার সাথে বাঙালির সংস্কৃতির দৃঢ় সেতুবন্ধন গড়ে তোলার অঙ্গীকার, সেখানে গ্রামগঞ্জে বিশেষত শহরাঞ্চলে মূল মর্মার্থ ভুলে অপসংস্কৃতির আদলে উদযাপিত হচ্ছে বৈশাখ।

আজকের এই দিনে রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকাতেই এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে। নববর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন পাশ্চাত্য কিংবা ভিনদেশী গানের মিশ্রণে বিকৃত রুচিবোধের দেখা মিলছে। সেখানে হয়তো বাজতে শোনা যাচ্ছে- মাইকেল জ্যাকসন, পপ গায়িকা শাকিরা কিংবা হিন্দি গানের চেঁচামেচি। আর দেশীয় গান বলতে যা বাজানো হচ্ছে তাও বাংলা নববর্ষের সঙ্গে ভারি বেমানান। অথচ এই দিনে আউল-বাউল বাংলার লোকগান কিংবা দেশাত্ববোধক গানগুলো কানে বাজলে কতইনা মধুর মনে হতো।

অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ডে লাল-সবুজের পতাকাতলে দাঁড়িয়ে আমরা যদি আমাদের হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে মননে ধারণ করতে না পারি তবে এমন বৈশাখ হয়তো প্রতিবছরই আসবে- তবু অপূর্ণ থেকে যাবে আমাদের প্রকৃত আত্মপরিচয়। সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির নিখাদ অনুশীলন।