মেইন ম্যেনু

বাইকে তুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ! কী হয়েছিল ওই দিন?

রস্বতী পুজো উপলক্ষে গ্রামে জলসা বসেছিল। রবিবার রাতে ঠাকুমার সঙ্গে সেই জলসা শুনতে গিয়েছিল বছর তেরোর এক কিশোরী। রাতে বাড়ি ফেরার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। আর তখনই জানা যায়, ওই জলসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের শ্রীপুর গ্রামের এই ঘটনায় পুলিশে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ওই কিশোরীর পরিবার। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি গণধর্ষণের মামলা রুজু করেছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। গুরুতর অসুস্থ ওই কিশোরী এই মুহূর্তে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন।

ঠিক কী হয়েছিল ওই দিন?
পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রীপুরের একটি ক্লাব সরস্বতী পুজো উপলক্ষে রবিবার এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান দেখতে সন্ধ্যা থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে ক্লাবের মাঠে। ঠাকুমাকে সঙ্গে নিয়ে ওই জলসা শুনতে এসেছিল গ্রামেরই এক কিশোরী।

স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে সে। ঠাকুমার পাশেই মাটিতে বসে জলসা শুনছিল। বেশ কিছু ক্ষণ পর ঠাকুমা দেখেন, নাতনি পাশে নেই। রাত তখন প্রায় ন’টা। আশপাশের দর্শকদের তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কেউ তাকে উঠে যেতে দেখেছেন কি না? কিন্তু, জলসা শোনার ফাঁকে কেউই ওই কিশোরীকে খেয়াল করেননি। তাকে না খুঁজে পেয়ে এর পরে আয়োজকদের কাছে যান সকলে। শুরু হয় খোঁজ।

ঘণ্টাখানেক পর গ্রামেরই দুই যুবক স্বরূপ দাস এবং সমর দাসের সঙ্গে তাকে অনুষ্ঠানের মাঠ থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরে হরিসিংহপুর পার্কের কাছে ওই কিশোরীর খোঁজ মেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানিয়েছেন, বাইক নিয়ে যখন তাঁরা ওই কিশোরীর সন্ধানে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তখন পার্কের কাছে রাস্তার উপর সমরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন তাঁরা। কিশোরীকে দেখেছেন কি না জিজ্ঞেস করা হয়। তখনই আমতা আমতা করতে থাকে ওই যুবক। পাশের খেত থেকে সদ্য ধান কাটা হয়েছে। সেখানেই অবিন্যস্ত অবস্থায় এর পর স্বরূপ এবং ওই কিশোরীকে পাওয়া যায়।

ক্লাবের ছেলেরা এর পর তিন জনকেই কিশোরীর বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরিবারের লোকজনদের সামনে তাদের জিজ্ঞেস করা হয়। কেন এত রাতে ওই জায়গায় গিয়েছিল তার? সদুত্তর না পেয়ে তিন জনকেই বকাঝকা করতে থাকেন তাঁরা। হঠাত্ই অসুস্থ বোধ করতে তাকে মেয়েটি। সেই সঙ্গে যৌনাঙ্গ থেকে শুরু হয় রক্তপাত। তা দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের লোকদের। মেয়েটি এর পর প্রকাশ্যে স্বরূপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। এর পরে সে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে যে তাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়য় সবাই।

আর সেই ফাঁকেই চম্পট দেয় মূল অভিযুক্ত বছর আঠেরোর স্বরূপ এবং ২৬ বছরের সমর। পুলিশের কাছে অভিযোগে কিশোরীর দাদু স্বরূপ এবং সমরের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন।

ওই কিশোরীর দাবি, ঠাকুমার পাশে বসে জলসা শোনার সময় সে এক বার উঠেছিল। সেই সময় স্বরূপ এসে তাকে জানায়, পাশের গ্রামে অন্য একটা জলসা খুব ভাল হচ্ছে। এর পরে সে কিশোরীকে বাইকে করে তার সঙ্গে সেখানে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরিচিত বলে স্বরূপের প্রস্তাবে রাজি হয় কিশোরী।

এর পর স্বরূপ এবং সমর তাকে বাইকে করে নিয়ে যায় ওই খেতে। সমরকে রাস্তা পাহারার দায়িত্ব দিয়ে এর পর স্বরূপ কিশোরীকে ধর্ষণ করে। কাউকে কিছু বললে তাকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়। সে কারণেই কাউকে কিছু বলেনি সে।

সোমবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক। পুলিশকে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। খবর-আনন্দবাজার